বাংলাহান্ট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (Narcotics Control Bureau)। ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’ (Operation Trident) নামে এই বিশেষ অভিযানে অসম, মিজোরাম (Mizoram) ও মণিপুরের (Manipur) মোট ৩৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অভিযানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের হদিস মিলেছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১৮ জনকে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, বিস্ফোরক এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তিরও সন্ধান মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উত্তর-পূর্ব ভারতকে ব্যবহার করে চলা আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের আর্থিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
৩ রাজ্যে ১০০ কোটির সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের হদিস পেল NCB (Narcotics Control Bureau)
দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পর শুক্রবার ভোরে অভিযান শুরু হয়। এনসিবির সঙ্গে এই যৌথ অভিযানে অংশ নেয় মিজোরাম পুলিশ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারী দলগুলি মিজোরামের আইজল, চম্পাই ও জোখাওথার, মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর এবং অসমের কাছাড়-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারত, মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক করিডরকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার চালানো হচ্ছিল। এই চক্রের মাধ্যমে নিষিদ্ধ মাদক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের দিকেও পাচার করা হত বলে অভিযোগ (Narcotics Control Bureau)।
আরও পড়ুন: বেসরকারি স্কুলের অনুমোদনে ১০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ! তামিলনাড়ুর প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী গ্রেফতার
এনসিবির দাবি, এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা মায়ানমারের বাসিন্দা থাংচিনতুয়াং ওরফে চিনতুয়াং। তদন্তকারীরা দিল্লি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দশটিরও বেশি মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, মায়ানমার থেকে মেথামফেটামিন ও হেরোইনের মতো নিষিদ্ধ মাদক এনে মিজোরাম, মণিপুর, অসম ও ত্রিপুরার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হত। এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা, মাদক সরবরাহের পথ এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই অভিযানের সূত্রপাত হয়েছিল আরও আগে। ২০২৪ সালে লালরামপারি নামে এক মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই চিনতুয়াংয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি এনসিবির। সেই সূত্র ধরে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিন রাজ্যে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চিনতুয়াং-সহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনসিবির দাবি, তল্লাশিতে প্রায় ১৭.৮২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ১২ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৫০০টি ডিটোনেটর। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলির উৎস, সেগুলি কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল এবং মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে তার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের প্রকৃত চরিত্র জানতেও তদন্ত চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৭৫ বারের প্রত্যাখ্যানেও বজায় জেদ! অভিনব আইডিয়ায় ব্যবসা গড়ে বার্ষিক ৪.৫ কোটি আয় দীপ-লক্ষ্যের
এনসিবির এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অসম, মিজোরাম ও মণিপুরের পুলিশ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, তিন রাজ্যের ৩৮টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াও ‘অপারেশন ট্রাইডেন্ট’-কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তর-পূর্ব ভারতকে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ মাদক ও অন্যান্য বেআইনি পণ্য পাচারের পথ বন্ধ করতে হবে। তদন্তকারীদের আশা, এই অভিযানের মাধ্যমে শুধু মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরই নয়, তাদের আর্থিক লেনদেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও সামনে আসবে। তবে সন্দেহজনক হাওয়ালা লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব এবং উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের সঙ্গে পাচার চক্রের সম্পর্ক সম্পর্কে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও সামনে আসেনি (Narcotics Control Bureau)।














