সকালে ঘুম ভাঙতেই মিলল চাকরি যাওয়ার ই-মেল! অক্টোবরে দ্বিতীয়বার কর্মী ছাঁটাই Amazon-এ

Published on:

Published on:

This is the second time in October that e-commerce company Amazon has laid off employees.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) নির্ভর প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে অ্যামাজন (Amazon)। অথচ সেই সংস্থাতেই একের পর এক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অক্টোবর মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মী ছাঁটাই (Mass Layoffs) করল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স সংস্থাটি। বুধবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে কর্মীদের একাংশের কাছে পৌঁছয় ই-মেল ও টেক্সট মেসেজ। তাতেই জানতে পারেন, সংস্থার সঙ্গে তাঁদের কর্মজীবনের ইতি ঘটেছে। এবার অ্যামাজনের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আচমকা এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

অক্টোবর মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মী ছাঁটাই করল ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন (Amazon):

জানা গিয়েছে, এবারের ছাঁটাইয়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কর্মীদের উপর। সংস্থার তরফে অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পিছনে সাংগঠনিক পরিবর্তন এবং কাজের দক্ষতা বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। অ্যামাজনের (Amazon) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো পর্যালোচনা করার পর কয়েকটি পদ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মী কাঠামোর সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। তবে কর্মীদের কাছে যে এই সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ নয়, তা স্বীকার করেছে সংস্থাটি। যদিও ঠিক কোন কোন পদে কতটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: -৫৫ ডিগ্রি থেকে +৫৫ ডিগ্রি! প্রতিটি পরিস্থিতিতেই থাকবে সক্রিয়, ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াবে BVS 10 সিন্ধু ATV

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, একদিকে যখন নতুন নতুন প্রযুক্তিপণ্য বাজারে আনছে অ্যামাজন, অন্যদিকে তখনই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে সংস্থাটি। কয়েক সপ্তাহ আগেই নতুন কিন্ডল ই-রিডার এবং ট্যাবলেট কম্পিউটার বাজারে এনেছিল তারা। বুধবার আবার অ্যালেক্সা-চালিত নতুন অ্যালার্ম ক্লক এবং ফটো ফ্রেম আনার কথা ঘোষণা করেছে সংস্থা। ফলে নতুন পণ্য বাজারে আনার তোড়জোড়ের মধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। তবে নতুন পণ্য প্রকাশ এবং কর্মী ছাঁটাই—এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

অক্টোবর মাসে এটাই অ্যামাজনের প্রথম কর্মী ছাঁটাই নয়। এর আগে মাসের শুরুতেই সংস্থার মূল খুচরো ব্যবসার বিভাগ থেকে প্রায় ১,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। তার পর ফের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগে এই পদক্ষেপ। অর্থাৎ, এক মাসের মধ্যেই দু’দফায় কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সংস্থাটি। এর আগেও বড়সড় কর্মী সংকোচনের পথে হেঁটেছিল অ্যামাজন। গত বছরের অক্টোবরে প্রায় ১৪,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সামনে আসে। তার পর জানুয়ারিতে আরও ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করে সংস্থা। ধারাবাহিক এই সিদ্ধান্তগুলি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

This is the second time in October that e-commerce company Amazon has laid off employees.

আরও পড়ুন: সুদূর ইউরোপে ভারতীয় অস্ত্রের রমরমা! ৪ বছরে বাড়ল ১,৬৬৫ শতাংশ রফতানি

অন্যদিকে, কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে অ্যামাজন (Amazon)। সংস্থাটি এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এআই খাতে সংস্থার বিনিয়োগ ২২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ব্যবসার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মী সংকোচনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। যদিও এআই বিনিয়োগের কারণেই এবারের ছাঁটাই হয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে একের পর এক ছাঁটাই এবং প্রযুক্তিতে বিপুল লগ্নির আবহে অ্যামাজনের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।