ED তল্লাশির মাঝেই নথি নিয়ে যান মমতা! I-PAC মামলায় শুনানি শেষ, রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট

Published on:

Published on:

I-PAC case hearing completed in Supreme Court verdict postponed
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত জানুয়ারি মাসে বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তে কলকাতার দু’টি জায়গায় হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। আইপ্যাকের (I-PAC) দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় তাঁরা। সেই তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। এবার শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানি শেষ হল।

রায়দান স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট | (Supreme Court)

বৃহস্পতিবার বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে আইপ্যাক মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। তবে রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশনে হস্তক্ষেপ করল না হাইকোর্ট! খারিজ অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন

গত অগাস্ট মাসে আইপ্যাক মামলার শুনানিতে বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ জানতে চেয়েছিল, পছন্দের তদন্তকারী সংস্থা নির্বাচনের বিষয়টি কি রাজ্যের উপর ছেড়ে দেওয়া যায়। তাতে অসম্মতি জানিয়েছিলেন ইডির আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু।

ইডির তরফে জানানো হয়, রাজ্যে পালাবদল হলেও রাজ্য পুলিশের উপর তাঁদের আস্থা নেই। সেই শুনানিতেই মমতার আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখন সরকার বদলেছে। সেই কারণে বর্তমান সরকার চাইলে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কে তদন্ত করবে। পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রেও আর কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের দরকার নেই।“

গত জানুয়ারি মাসে আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলাকালীন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তিনি একাধিক নথিপত্র বের করে নিয়ে যান। এই ঘটনায় ইডি ও তৃণমূল আলাদাভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল।

কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি ছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নথি কেড়ে নিয়ে গিয়েছেন মমতা। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য ছিল, ভোটের আগে এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের দলের সংবেদনশীল নথি ও নির্বাচনী কৌশল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Supreme Court

ইডি অবশ্য জানিয়েছিল, তল্লাশি অভিযানের সময় তাঁরা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। গত ৮ জানুয়ারি তথা ঘটনার দিনই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। তবে ৯ জানুয়ারি ওই আবেদনের শুনানি ১৪ জুলাই অবধি মুলতুবি করে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। তবে রায়দান স্থগিত রেখেছে বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় সেটাই দেখার।