বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাদুশিল্প। কিন্তু শুধু দর্শকদের মনোরঞ্জন নয়, ম্যাজিক যে একটি স্বতন্ত্র শিল্প ও দীর্ঘ চর্চার বিষয়, সেই ধারণাকেই আরও ছড়িয়ে দিতে চাইছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। বাংলার জাদুচর্চাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তার ইতিহাস ধরে রাখার লক্ষ্যে এবার বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ম্যাজিক স্কুলের পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
পশ্চিমবঙ্গে গড়ে উঠবে জাদুশিল্প শেখার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। পাশাপাশি বাংলার জাদুর অতীত, শিল্পীদের অবদান এবং এই ক্ষেত্রের ঐতিহ্য তুলে ধরতে তৈরি করা হবে একটি সংগ্রহশালা। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এই উদ্যোগের দায়িত্বে রয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে দেশের পরিচিত জাদুশিল্পী পি সি সরকার জুনিয়রকে। তাঁকে উপদেষ্টা কমিটির প্রধান পরামর্শদাতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের রূপরেখা স্থির করতে শুক্রবার নন্দন সভাঘরে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসে নবগঠিত উপদেষ্টা কমিটি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং দফতরের সচিব সৌমিত্র মোহন। পি সি সরকার জুনিয়র একা আসেননি, তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জয়শ্রী এবং মেয়ে মানেকা। এ ছাড়াও বাংলার জাদুশিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কমিটির বিভিন্ন দায়িত্বে রাখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হবে জাদুশিল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা সেখানে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে হাতে-কলমে বিভিন্ন কৌশল শেখার সুযোগ পাবেন। কীভাবে দর্শকের সামনে জাদুর উপস্থাপনা করতে হয়, কীভাবে অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা তৈরি করতে হয়—এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাদুশিল্পীদের তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন : নবম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে বড় বদল, পরিবেশ শিক্ষা বাদ দিল CBSE
অন্যদিকে, সংগ্রহশালাটি হবে বাংলার জাদুচর্চার স্মৃতি ও ইতিহাস ধরে রাখার একটি জায়গা। অতীতের বিশিষ্ট জাদুকরদের কাজ, তাঁদের অবদান এবং এই শিল্পের বিবর্তনের নানা দিক সেখানে তুলে ধরার ভাবনা রয়েছে। ফলে দর্শকদের পাশাপাশি গবেষক ও জাদুশিল্পে আগ্রহী মানুষও বাংলার ম্যাজিকের ইতিহাস জানার সুযোগ পেতে পারেন।প্রশাসনিক স্তরে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পরই জানা যাবে, কবে থেকে বাংলার মানুষ বাস্তবে এই উদ্যোগের সুবিধা পাবেন।












