বাংলা হান্ট ডেস্ক : মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের কয়েকটি দাবি ঘিরে রবিবার ঠাকুরনগরের মঞ্চ থেকে একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি মতুয়াদের নাগরিকত্ব এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
কী ঘোষণা কররলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) ?
বনগাঁর সাংসদ তথা মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জমি থাকলেও অর্থের অভাবে মন্দির সম্প্রসারণের কাজ এগোচ্ছে না বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে নতুন মন্দির তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভাই শান্তনুকে বললাম, এই মন্দিরটা তো আরও বড় করতে হবে। তিনি বললেন, জমি তো আছে, কিন্তু সাধ থাকলেও সাধ্য কই? এটা শুনে আমি ভেবে নিলাম। আজ বলে যাচ্ছি, মতুয়া মহাতীর্থে নতুন মন্দির হবে। তীর্থক্ষেত্রের ট্রাস্টের অর্থ থেকে সেটা হবে। সব ব্যবস্থা হয়ে গেলে ভূমিপুজোয় আমি নিজে আসব, প্রধানমন্ত্রীও আসবেন।”
শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, মতুয়াদের অন্যতম বড় উৎসব বারুণী মেলার পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মেলার আয়োজনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা করবে বলে তাঁর বক্তব্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বারুণী মেলা নিয়ে হাই কোর্টে যেতে হবে না। ওই মেলায় বিশেষ বিশেষ সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। ধীরে ধীরে জাতীয় মেলায় উন্নীত করা হবে। যেমন শ্রাবণী মেলা, তারকেশ্বরে জলাভিষেক, পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বারুণী মেলাকেও বাড়িয়ে তোলা হবে।”
ঠাকুরনগরের স্থানীয় প্রশাসন নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এলাকার মানুষের নাগরিক পরিষেবা এবং উন্নয়নমূলক কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পৃথক পুরসভা তৈরির পরিকল্পনা সামনে আনেন তিনি। আগামী বাজেটেই এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, “আগামী বাজেটে ঠাকুরনগরে পুরসভা তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ করব। ধাপে ধাপে কাজ হবে। এখানে তৃণমূল জমানায় যে অত্যাচার হয়েছে, তা আর হবে না, কথা দিলাম। মতুয়ারা সবাই যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, তা দেখব। আমি আপনাদের সেবক, সেবা করে যাব।”

আরও পড়ুন : মেঘের দেশে হারিয়ে যেতে চান? দীপাবলির সময় ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের এই স্বল্প পরিচিত গ্রাম থেকে
এদিনের সম্মেলনে নাগরিকত্বের প্রসঙ্গও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে তাঁদের কাছে পৌঁছয়, তা দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী বাজেটে বরাদ্দ এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে ঘোষণাগুলির অগ্রগতি। ঠাকুরনগরের মানুষ এখন দেখবেন, সম্মেলনের মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা দ্রুত বাস্তব রূপ পায়।












