বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরশুম হোক কিংবা ছুটির সময়, বিমানের টিকিট (Flight Tickets) কাটতে গিয়ে যাত্রীদের অনেকেরই পকেটে টান পড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট রুটে যাত্রীদের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে টিকিটের দামও অনেকটা বাড়িয়ে দিচ্ছে বিমান সংস্থাগুলি (Indian Airlines)। এই পরিস্থিতিতে বিমানভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government of India)। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে কার্যকর হতে চলেছে এই নয়া নিয়ম। যদিও বিমানভাড়ার উপর নির্দিষ্ট কোনও সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা জনস্বার্থের প্রয়োজনে ভাড়ার বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্র। ফলে বিমান সংস্থাগুলির ভাড়া নির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় থাকলেও, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে।
বিমানভাড়া (Flight Tickets) বৃদ্ধি যাত্রীদের স্বস্তি দিতে কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকা
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে বিমান সংস্থাগুলিকে টিকিটের (Flight Tickets) দাম নির্ধারণের সময় তাদের পরিচালন খরচ-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, জ্বালানির খরচ, বিমান পরিচালনা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের মতো বিষয়গুলির ভিত্তিতেই ভাড়ার কাঠামো তৈরি করতে হবে। সেই ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জমা দিতে হবে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন বা ডিজিসিএ-র কাছে। শুধু সরকারি দফতরে তথ্য জমা দিলেই হবে না, প্রতিটি বিমান সংস্থাকে নিজেদের ওয়েবসাইটেও ভাড়ার বিবরণ প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে যাত্রীরা টিকিট কাটার আগে বিভিন্ন সংস্থার ভাড়ার কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। বিমানভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনাই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: মহাদেব বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে বড় সাফল্য CBI-এর! ওমান থেকে ভারতে ফেরানো হল মূলচক্রী সৌরভ চন্দ্রকরকে
টিকিটের মূল দাম বা বেস ফেয়ারের পাশাপাশি অন্যান্য খরচের বিষয়েও যাত্রীদের আগে থেকেই জানাতে হবে বিমান সংস্থাগুলিকে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, টিকিটের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর, সরকারি ফি এবং অন্যান্য অতিরিক্ত চার্জের বিবরণ স্পষ্টভাবে দেখাতে হবে। এমনকী, কোনও যাত্রী টিকিট বাতিল করলে কত টাকা কাটা হবে, বাতিলের ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য এবং টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়ম কী, সেই তথ্যও টিকিট বুকিংয়ের সময় জানাতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের প্রাথমিক দাম কম দেখালেও পরে বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হয়ে মোট খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। এই ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতেই বুকিংয়ের সময় সমস্ত খরচ ও শর্ত সামনে রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ফলে টিকিট কেনার আগে যাত্রীরা মোট কত টাকা খরচ করতে হবে, তা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
তবে নতুন নির্দেশিকায় বিমান সংস্থাগুলির উপর সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা চাপানো হচ্ছে না। অর্থাৎ, সংস্থাগুলি নিজেদের চাহিদা এবং পরিচালন পরিস্থিতি অনুযায়ী টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অস্বাভাবিক বেশি ভাড়া আদায় করা না হয়, সেদিকেও নজর রাখবে কেন্দ্র। বিশেষ করে কোনও নির্দিষ্ট রুটে হঠাৎ যাত্রীসংখ্যা বেড়ে গেলে বা কোনও কারণে টিকিটের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে, সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা থাকছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভাড়ার বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থাৎ, বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণের ব্যবস্থা থাকলেও জনস্বার্থকে উপেক্ষা করা যাবে না।

আরও পড়ুন: বিগ বসের ঘরে থাকার জন্য কত পারিশ্রমিক? এবার মুখ খুললেন ভরত কল
আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিমানযাত্রার খরচ এবং টিকিট বুকিংয়ের (Flight Tickets) প্রক্রিয়ায় কতটা পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে উৎসবের মরশুম, ছুটির দিন কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যাঁদের বিমানে যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের কাছে ভাড়ার স্বচ্ছতা এবং অতিরিক্ত চার্জের আগাম তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নতুন নির্দেশিকা চালু হলেই যে বিমানভাড়া কমে যাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। কারণ সরকার নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ ভাড়া বেঁধে দিচ্ছে না। বরং বিমান সংস্থাগুলির ভাড়া নির্ধারণের পদ্ধতিকে নিয়মের আওতায় আনা এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা বজায় রাখাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। নির্দেশিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা বোঝা যাবে নিয়ম চালুর পরেই।












