বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাড়তি আয়ের জন্য অনেকেই শেয়ার বাজার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখার কথা ভাবেন। কিন্তু বাজারের ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাঁদের জন্য ডাকঘরের (Post Office Scheme) সঞ্চয় প্রকল্পগুলি হতে পারে বিকল্প ভরসা। এখানে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ না থাকলেও সমস্যা নেই। মাসে মাত্র ১০০ টাকা জমা করেও সঞ্চয়ের যাত্রা শুরু করা যায়। আবার সন্তানের ভবিষ্যৎ, অবসরজীবন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মূলধন বাড়ানোর লক্ষ্য অনুযায়ী রয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প।
পোস্ট অফিসের এই স্কিমগুলি (Post Office Scheme) সঞ্চয়ের জন্য দারুণ
একসঙ্গে অনেক টাকা বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়? সে ক্ষেত্রে রেকারিং ডিপোজিট বা RD-তে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে সঞ্চয় গড়ে তোলা যায়। পোস্ট অফিসের এই অ্যাকাউন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর। মাত্র ১০০ টাকা দিয়েই প্রতি মাসে টাকা জমা রাখা শুরু করা সম্ভব। বর্তমানে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৬.৭ শতাংশ সুদ মিলছে। প্রতি তিন মাস অন্তর চক্রবৃদ্ধি পদ্ধতিতে সুদের হিসাব করা হয়। নিয়মিত অল্প অর্থ জমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের শেষে একটি বড় তহবিল তৈরির সুযোগ রয়েছে এই স্কিমে।
অবসরকালীন সঞ্চয় কিংবা ভবিষ্যতের বড় কোনও খরচের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে চাইলে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PPF বেছে নিতে পারেন। এই প্রকল্পে এক অর্থবর্ষে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা দেওয়া যায়। অ্যাকাউন্টের মূল মেয়াদ ১৫ বছর। বর্তমানে বার্ষিক সুদের হার ৭.১ শতাংশ। আয়কর আইনের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ, সুদ এবং মেয়াদ শেষে পাওয়া অর্থের ক্ষেত্রে করছাড়ের সুবিধাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এই প্রকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রতি মাসে কিস্তি দেওয়ার বদলে হাতে থাকা টাকা একবারে বিনিয়োগ করতে চাইলে ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা NSC-র দিকে নজর দিতে পারেন। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা জমা দিয়েই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। বর্তমানে বার্ষিক সুদের হার ৭.৭ শতাংশ। এখানে প্রতি বছর সুদ জমা হলেও তা হাতে পাওয়া যায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। অর্থাৎ পাঁচ বছর পূর্ণ হলে বিনিয়োগের মূল অর্থের সঙ্গে জমে থাকা সুদও একসঙ্গে ফেরত পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন : দীপাবলিতে ৫০ কেজি চাল ও ৫ হাজার টাকা! চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বিনিয়োগের অর্থ কত দিনে দ্বিগুণ হবে, তা আগে থেকেই জানতে চান? কিষাণ বিকাশ পত্র বা KVP সেই ধরনের একটি সঞ্চয় প্রকল্প। মাত্র ১,০০০ টাকা থেকে এতে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। বর্তমানে এই স্কিমে বার্ষিক ৭.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সুদের হারে বিনিয়োগকারীর জমা অর্থ ১১৫ মাসে দ্বিগুণ হয়। সময়ের হিসাবে যা ৯ বছর ৭ মাস। ফলে যাঁরা দীর্ঘ সময়ের জন্য টাকা রেখে দিতে পারবেন, তাঁদের কাছে এই প্রকল্প একটি বিকল্প হতে পারে।
কন্যাসন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের আর্থিক প্রয়োজনের কথা ভেবে তৈরি হয়েছে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা। ১০ বছরের কম বয়সি মেয়ের নামে এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। বছরে অন্তত ২৫০ টাকা জমা রাখা বাধ্যতামূলক, অন্যদিকে সর্বোচ্চ জমার সীমা ১.৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে এই প্রকল্পে বার্ষিক ৮.২ শতাংশ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাকাউন্ট খোলার দিন থেকে ২১ বছর পর প্রকল্পটি মেয়াদপূর্তিতে পৌঁছয়। দীর্ঘ সময় ধরে টাকা জমিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি আলাদা তহবিল তৈরি করাই এই স্কিমের মূল উদ্দেশ্য। পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত, তা নির্ভর করবে আপনার সঞ্চয়ের সামর্থ্য এবং আর্থিক লক্ষ্যের উপর। কারও প্রয়োজন প্রতি মাসে অল্প অল্প করে টাকা জমানো, আবার কেউ পাঁচ বা পনেরো বছরের জন্য এককালীন অর্থ রাখতে আগ্রহী।












