বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের চালুর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে পাকিস্তানের (Pakistan) ব্যবসায়ী মহলে। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আদানপ্রদান (Commercial exchanges) কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে কেটে গিয়েছে সাত বছরেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ বিরতির প্রভাব এবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে পাকিস্তানের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পপণ্য আমদানির খরচও অনেকটাই বেড়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় সামলাতে গিয়ে চাপে পড়ছেন শিল্পোদ্যোগীরা। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ফের স্বাভাবিক করার পক্ষে সরব হয়েছেন তাঁরা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফেরাতে চায় পাকিস্তান (Pakistan):
পাক (Pakistan)-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৩ লক্ষ ৭৯ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নুর মহম্মদ কাসুরির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের বিকল্প দেশগুলির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আগে তুলনামূলক কম দূরত্বে এবং সহজে যে সমস্ত কাঁচামাল ও শিল্পপণ্য পাওয়া যেত, এখন সেগুলি সংগ্রহ করতে হচ্ছে ব্রাজিল, মিশর, চিন কিংবা আমেরিকার মতো দেশ থেকে। এতে শুধু আমদানি খরচই বাড়ছে না, পণ্য পরিবহণে সময়ও অনেক বেশি লাগছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পে। তুলো উৎপাদন ও বস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপুল অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে শিল্প সংস্থাগুলিকে। নুর মহম্মদ কাসুরির দেওয়া হিসেব বলছে, ব্রাজিল, মিশর, চিন এবং আমেরিকা থেকে তুলো আমদানির জন্য পাকিস্তানের বস্ত্র উৎপাদকদের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চালু থাকলে এই খরচের একটা বড় অংশ এড়ানো সম্ভব হত বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বাড়ছে। তার প্রভাব পড়ছে শিল্পের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা এবং বাজারে পণ্যের দামের উপর।
শুধু বস্ত্রশিল্প নয়, পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের ক্ষেত্রেও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ী মহলের। ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য আমদানিতে এখন বিকল্প বাজারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের মতে, ভারত থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি ফের শুরু করা গেলে পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের বছরে প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। তুলনামূলক কম পরিবহণ খরচে এবং দ্রুত পণ্য হাতে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে উৎপাদন ব্যবস্থাও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যও দূরবর্তী দেশ থেকে আনতে হওয়ায় আমদানি নির্ভর ব্যবসাগুলির উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন: ৪৮ ঘণ্টার অভিযান! জলদস্যুদের দখল করা ইরানের ট্রলার থেকে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার
এমন পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দাবি পাকিস্তানের (Pakistan) ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির উপর পড়লে তার মাশুল দিতে হয় শিল্পোদ্যোগী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদেরও। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানির খরচ বাড়লে উৎপাদিত পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ফের চালুর বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি, তবু পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের এই আবেদন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে বাণিজ্যের পথ খুললে দুই দেশের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। আপাতত সেই সম্ভাবনার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পাকিস্তানের ব্যবসায়ীরা।












