বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবার হাই স্পিড উরেল পরিষেবার স্বনির্ভর হওয়ার পথে ভারত। দেশের মাটিতেই তৈরি হয়েছে প্রথম স্বদেশী বুলেট ট্রেন (Bullet Train) ভারত ২৮। বেঙ্গালুরুর এর ভারত আর্থ মুর্ভাস লিমিটেড এর কারখানায় তৈরি হচ্ছে এই ট্রেনটি। সব পরিকল্পনা মাফিক এগোলে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মুম্বাই আমেদাবাদ গামী হাই স্পিড করিডোরে শুরু হতে চলেছে এর পরিষেবা।
ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনে কী কী বিশেষ সুবিধা? (Bullet Train)
ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম এই ট্রেনটি (Bullet Train) একসঙ্গে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থেকে শুরু করে আরামদায়ক আসন, ওয়াইফাই ও বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য থাকছে নানান রকম সুবিধা। এই বিষয়ে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে ভারত আর্থ মুর্ভাস লিমিটেড এর আদিত্য মেনুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন করেন।
সেখানে বুলেট ট্রেনের নির্মাণ কাজ খতিয়ে দেখেন তিনি। বর্তমানে ট্রেনের প্রথম কোচের ইন্টিগ্রেশন কার বডির স্কুইজ টেস্ট চলছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বাইরের প্রবল চাপ ও বিভিন্ন ধরনের শক্তি প্রয়োগের ফলে, ট্রেনের কাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি কাঠামোর নিরাপত্তা ও দৃঢতা যাচাই করতেই এই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: চাকরিপ্রার্থীদের অপেক্ষার অবসান, নভেম্বরের তিন পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করল SSC
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্কুইজ টেস্ট এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ট্রেনের কোচে প্রপালশন সিস্টেম ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বসানো হবে। তারপর শুরু হবে জলবায়ু পরীক্ষা। প্রচণ্ড গরম, তীব্র ঠান্ডা এবং ভারী বৃষ্টিতে ট্রেনটি কীভাবে কাজ করে, তা খতিয়ে দেখা হবে। ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায় ট্রেনের কার্যক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এই ট্রেনে কি কি সুবিধা থাকছে?
প্রায় ২০২ মিটার দীর্ঘ ‘ভারত ২৮’ ট্রেনসেটে থাকবে আটটি কোচ। এর মধ্যে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের এবং একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচ। এই ট্রেনে একসঙ্গে ৫৫৭ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের কোচগুলিতে ৩×২ আসন বিন্যাস থাকবে। এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচে থাকবে ২×২ আসন বিন্যাস। চারটি মোটর কার ও চারটি ট্রেলার কার নিয়ে তৈরি হবে ট্রেনটি। প্রয়োজনে আটটি কোচের দু’টি ট্রেন জুড়ে ১৬টি কোচের একটি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। এর ফলে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের আসনসংখ্যা বাড়ানো যাবে।
যাত্রীদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই ট্রেনের অন্দরসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। থাকছে আরামদায়ক আসন, পা রাখার পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রতিটি সারির পাশে বড় জানলা। যাত্রীদের জন্য থাকবে এলইডি আলো, মাথার উপরে লাগেজ ও বড় ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা জায়গা।
প্রতিটি যাত্রীর জন্য থাকবে পৃথক চার্জিং পয়েন্ট। ফলে সফরের সময় মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ চার্জ করা যাবে। ওয়াই-ফাই ভিত্তিক ইনফোটেনমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা বিনোদনের সুযোগ পাবেন। কোচের ভিতরে থাকা এলসিডি ডিসপ্লেতে ইংরেজি, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষায় বিভিন্ন তথ্য জানানো হবে।
কবে থেকে চালু হবে এই ট্রেনটি?
২০২৭-২৮ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরাত-ভাপি অংশে এই ট্রেনের পরীক্ষামূলক দৌড় শুরু হতে পারে। ২০২৭ সালের অগস্ট থেকে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।BEML-এ তৈরি হচ্ছে প্রথম দু’টি স্বদেশি বুলেট ট্রেন। প্রতিটি ট্রেনেই থাকবে আটটি করে কোচ (Bullet Train)।












