গ্রান্ট ইন এইড-দের বকেয়া DA কড়ায় গন্ডায় সঠিক হিসেব সহ বুঝিয়ে দেওয়া হবে, প্রতিশ্রুতি ভাস্কর ঘোষের

Published on:

Published on:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি (DA Case Hearing) নিয়ে সরগরম মঙ্গলবার। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত (Dearness Allowance) মামলার পরবর্তী শুনানির পরই ফেসবুকে এক পোস্ট করেন ভাস্কর ঘোষ। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘গ্রান্ট ইন এইডদের জন্য যেখানে আইনজীবী বিকাশ সিং বলছেন সেখানে বাকিরা ভুলভাল কথা বলে সব শেষ করে দিচ্ছে!’ তার এই পোস্টের পর থেকে একাধিক জল্পনা চলছিল সরকারি কর্মীদের মধ্যে। অবশেষে সেই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন সরকারি কর্মী সংগঠনের নেতা।

বকেয়া ডিএ ইস্যুতে বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ | Dearness Allowance

গতকাল এক ভিডিও বার্তায় ভাস্করবাবু বলেন, “আমরা জানি আজকে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানি ছিল। সেই শুনানিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ সিং তুলে ধরার চেষ্টা করেন যে গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের এখনও পর্যন্ত এক পয়সাও বকেয়া ডিএ মেটানো হয়নি। তিনি আরও বলেন যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট আইন প্রণয়ন করেছে সুতরাং এই গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের বিষয়টাকে যেহেতু রাজ্য সরকার পৃথকভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে সেই দেখানোর জায়গা কিছু নেই। এই যে রায় আছে সেই রায়ের মধ্যেই তাদের বিষয়টা সংযুক্ত করা আছে।”

“তিনি আরও বলেন যেহেতু আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এটা বলছে যে ডিএ-টা হচ্ছে রোপা ২০০৯ অনুযায়ী কর্মচারীদের legally enforceable right। তারা এটাও বলছে এই ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ বেঁধে দিচ্ছে যে AICPI অনুযায়ী মেটাতে হবে। Employees of the state of west Bengal তারা পাবেন। এই তিনটি ক্ষেত্রে তিনি এটিকে বাখ্যা করেন যে যেহেতু গ্রান্ট ইন এইড-দের বিষয়টাকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা নেই এবং পশ্চিমবঙ্গে গ্রান্ট ইন এইড-দের প্রত্যেকটা পৃথক রোপার মধ্যে যেহেতু AICPI আছে, আইন অনুযায়ী ডিএ প্রাপ্তির বিষয়টা রয়েছে সেহেতু সুপ্রিম কোর্ট এই ডিএ দিতে গিয়ে যে আইন প্রণয়ন করেছে সেটার মধ্যে দিয়েই গ্রান্ট ইন এইড-দের ডিএ মেটানো দরকার এবং মেটানো উচিৎ।”

আরও পড়ুন: হতে পারে পরমাণু হামলা? আগেভাগেই দেশবাসীকে সতর্ক করল ইরান, জারি অ্যাডভাইজারি ভিডিও

এরপরই ভাস্করবাবু বলেন, সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে সহমত হলেও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ওপর দুই মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবীরা। তার কথায়, “কোর্ট যখন এই নিয়ে সম্পূর্ণরূপে সহমত হয় সেই সময় ওপর দুই মামলাকারী সংগঠনের দুই আইনজীবী বিষয়টির মধ্যে ঢুকে সেটাকে জট পাকিয়ে দেন। এরপর বিচারপতিরা বলেন আপনারা আগে কমিটির কাছে যান। তারপর পরবর্তী শুনানির সময় বিষয়টা আসবে। বিচারপতি এটাও বলেন যে ভেবেছিলাম আজকে অর্ডার পেশ করব। কিন্তু অন্যরা বিভিন্ন বিষয় তুলে আনতে থাকেন যা গ্রান্ট ইন এইড-দের সঙ্গে সম্পর্কিতই নয়।”

শুধু তাই নয়, এদিন বিজেপি সরকারের প্রতিও নিজেদের হতাশার কথা জানান ভাস্করবাবু। বলেন, “নতুন সরকারের থেকে গ্রান্ট ইন এইড-রা সম্পূর্ণ হতাশ। নতুন সরকার এই কর্মীদের বকেয়া মেটাতে যেই ভূমিকা পালন করেছে যেভাবে বারংবার ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কোটে ফেলা হয়েছে, এবং আরও অবাক করা বিষয় কমিটি একাধিকবার রাজ্যের সঙ্গে বৈঠক করেছে কিন্তু সুপ্রিম নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বসেননি। আমরা অবাক হয়েছি এই বিষয়টাকে নিয়ে। কমিটির গড়িমসি নিয়ে।”

“আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি সরকার বলছে যে মিটিয়ে দেব। হাইকোর্টে যখন মামলা হচ্ছে তখন বলছে আমরা মিটিয়ে দেব আমাদের সময় দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও তারা একই কথা বলছেন। কিন্তু দিনের শেষে গ্রান্ট ইন এইড-দের ডিএ অধরা থেকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ যেটা মনে করছে আমরা যেমন আদালতে বিকাশ সিং দের মতো সিনিয়র আইনজীবীদের নামিয়ে লড়াইটা করছি ঠিক একইরকম ভাবে আলোচনা চলছে। হয়তো দিওয়ালির পর আমরা সরকারের সাথে বসে বিষয়টাকে সমাধানের চেষ্টা করব।” বলেন ভাস্করবাবু।

এদিন ফের একবার অধিকার ছিনিয়ে আনতে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বলেন, “প্রয়োজন পড়লে রাস্তায় নামা হবে। গ্রান্ট ইন এইড-দের আমরা ভরসা দিতে চাই যে হতাশ হবেন না। সমস্ত বকেয়া কড়ায় গন্ডায় সঠিক হিসেব সহ আপনাদের বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ নিচ্ছে। একইসাথে ওপর দুই মামলাকারী কনফেডারেশন অব স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ এবং ইউনিটি ফোরাম তাদের যারা আইনজীবী বার বার করে তাদের ভূমিকা নিয়েও আমরা হতাশ। যেখানে বিকাশ ভট্টাচার্য-এর মতো আইনজীবী কনফেডারেশন কে রিপ্রেসেন্ট করছে সেখানে তাদের জুনিয়র আইনজীবীদের এত সওয়াল করতে গিয়ে উল্টোপাল্টা কথা বলার যে প্রবণতা তা মামলার ক্ষতি করছে বলে আমরা মনে করি।”