বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন নীতি চালু করার ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। রাজ্যে আরও বেশি দেশি-বিদেশি সংস্থাকে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতেই আনা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগ প্রসার নীতি, ২০২৬’। এই নীতির মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন শিল্প তৈরির চেষ্টা করা হবে, তেমনই রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
West Bengal Government : নতুন শিল্পে কী কী সুবিধা দেবে রাজ্য?
নতুন এই শিল্পনীতিতে বিনিয়োগকারী ও শিল্প সংস্থাগুলির জন্য একাধিক সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে কী সুবিধা মিলবে, দেখে নিন একনজরে-
1. মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য সুবিধা: তাঁদের চাকরির সুযোগ বাড়াতে বিশেষ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি কর্মজীবী মহিলাদের জন্য হোস্টেল তৈরিতেও সাহায্য করবে রাজ্য।

2. শিল্প তৈরিতে আর্থিক সাহায্য: শিল্পের জন্য চিহ্নিত বিশেষ এলাকাগুলিতে নতুন শিল্প গড়লে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
3. নতুন প্রযুক্তির শিল্পে সুবিধা: সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রতিরক্ষা, জৈবপ্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রযুক্তির শিল্পে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
4. পরিবেশবান্ধব শিল্পে উৎসাহ: পরিবেশের ক্ষতি কম হয় এমন শিল্প এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে গড়ে ওঠা শিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘সিঙ্গুরকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা’, ১৫ বছর পর শিল্প ফেরানোর ইঙ্গিত শুভেন্দুর!
5. সহজে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ: সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থার মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সরকারি পরিষেবা পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।
6. প্রতিটি জেলায় শিল্পের উন্নতি: শুধু কয়েকটি শহর বা এলাকায় নয়, রাজ্যের প্রতিটি জেলাতেই শিল্পের উন্নতি করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
7. ছোট-বড় সব শিল্পে বিনিয়োগ: ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে শুরু করে বড় শিল্প, সব ক্ষেত্রেই নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যুবক-যুবতীদের জন্য ভালো ও স্থায়ী চাকরির সুযোগ বাড়ানোই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন এই শিল্পনীতির মাধ্যমে রাজ্যে আরও বেশি বিনিয়োগ আনা এবং নতুন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার (West Bengal Government)। ছোট-বড় সব ধরনের শিল্পের পাশাপাশি মহিলাদের কর্মসংস্থান এবং নতুন প্রযুক্তির উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলার যুবক-যুবতীদের জন্য আরও বেশি ভালো ও স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরি করাই রাজ্যের মূল লক্ষ্য।











