শিল্পে জোয়ার আনতে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কী কী সুবিধা পাবেন লগ্নিকারীরা?

Published on:

Published on:

CM Suvendu Adhikari makes major announcement to boost industry

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে এবার শিল্পপতিদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নতুন শিল্পনীতিতে শুধু আর্থিক অনুদান নয়, শিল্প পরিচালনার খরচ কমাতেও একাধিক সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে গত ১৫ বছরে প্রত্যাশা অনুযায়ী শিল্পের প্রসার ঘটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্যের শিল্পনীতি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে মহিলা এবং রূপান্তরকামী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে। এবার বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের ঘোষণা করল রাজ্য। এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য শুধু নতুন শিল্প গড়ে তোলা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কারখানা এবং আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে আবার উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা।

CM Suvendu Adhikari makes major announcement to boost industry

নতুন নিয়মে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। কোনও সংস্থা মহিলা কিংবা রূপান্তরকামী কর্মী নিয়োগ করলে তাঁদের ইপিএফে নিয়োগকর্তার যে অংশ জমা দেওয়ার কথা, তার সম্পূর্ণ টাকা আগামী ১০ বছর পর্যন্ত রাজ্য সরকার মেটাবে। পুরুষ কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সুবিধা হবে ৫০ শতাংশ। তবে কর্মীসংখ্যা ২০০-র বেশি হলে মহিলা কর্মীদের জন্য ইপিএফের নিয়োগকর্তার অংশের ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে অর্ধেক অর্থ দেবে সরকার।

বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এলাকায় কোনও সংস্থায় কমপক্ষে ২০০ জন এবং অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকলে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফের ৫০ শতাংশ অর্থ সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে। শিল্পের পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রেও আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে সরকার।

আরও পড়ুন : নতুন রূপ পেতে চলেছে রবীন্দ্র সরোবরের দুর্গা মিউজিয়াম, কী কী বদল আনছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর?

সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে মোট সহায়তার সীমা বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। থ্রাস্ট সেক্টরের শিল্প অথবা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা ইউনিটের জন্য এই সীমা ১১০ শতাংশ। আর কোনও শিল্প যদি একইসঙ্গে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এলাকায় অবস্থিত হয় এবং থ্রাস্ট সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা মিলতে পারে। তবে এই টাকা একবারে দেওয়া হবে না। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে অর্থ প্রদান করা হবে।

শুধু কর্মী নিয়োগ বা যন্ত্রপাতি কেনা নয়, কারখানা চালানোর খরচ কমানোর দিকেও নজর দিয়েছে রাজ্য। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের মাশুলে ছাড় পাবে। জমি কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটির ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মার্চ পর্যন্ত সারচার্জ দিতে হবে না। তবে জমি বরাদ্দ পাওয়ার পরেও কোনও সংস্থা কাজে অগ্রসর না হলে সেই জমি সরকারের হাতে ফিরে আসতে পারে। শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে একাধিক আর্থিক সুবিধার দরজা খুলে দিতে চাইছে নবান্ন।