বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত যেন থামার নামই নিচ্ছে না। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর, অন্যদিকে বিজেপির বিধায়কদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে সরব হলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সাংবাদিক বৈঠক থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করার পাশাপাশি বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুললেন তিনি।
কী বলেছেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)?
সম্প্রতি একটি সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। তাঁর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপির নেতৃত্বে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাঁদের নিজেদের দায়িত্ব সামলানোর মতো যথেষ্ট সক্ষমতা নেই।

কুণাল ঘোষের কথায়, “একটা চেয়ার বা পদ কাউকে দিলেন সেটাকে ক্যারি করার ক্ষমতা নেই। পুলিশ দিয়ে কিছু বিধায়ককে চাপ দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর কিছু ওরা বাঁচতে চলে গেছে। সেটার জন্য ভেতরের দম থাকতে হয়, বুকে জোর থাকতে হয়।” এরপরই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক সুর শোনা যায় তৃণমূল নেতার গলায়। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য বিজেপিকে পুলিশি সহায়তা নিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কুণাল বলেন, “যখনই সই দরকার হচ্ছে তখনই শুভেন্দু বাবুকে তার বাহিনী পাঠাতে হচ্ছে। এদের কোন ক্ষমতা নেই। এমন নেতা তৈরি করেছেন যাদের বিধায়কেরাই সহ্য করতে পারেনা। বিরোধী দলনেতা কাকে করতে হবে, পুলিশদের নিয়ে গিয়ে সই করাতে হবে। যান বিধায়কদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলুন। কারোর বাড়ি রাত একটায় পুলিশ গেছে।”
আরও পড়ুন : ‘মস্তানির দিন শেষ, কড়া পদক্ষেপ নেবে সরকার’! রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা হতেই হুঁশিয়ারি পঞ্চায়েতমন্ত্রীর
শুধু দলীয় নেতৃত্ব বা বিধায়কদের নিয়েই নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এনকাউন্টার সংক্রান্ত মন্তব্যের বিরুদ্ধেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করার ধারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক শত্রুদের ইচ্ছা করলে সরকার গুলি করে মেরে দিতে পারে বিজেপির এই ধারণা হচ্ছে। বিজেপির কেউ যদি বলে এনকাউন্টার করা উচিত, তার তীব্র বিরোধিতা করা উচিত।”
সাংবাদিক বৈঠক থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপি নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেন কুণাল ঘোষ। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে তাঁর মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি করতে পারে। পাল্টা শিবিরের তরফে এই অভিযোগের কী জবাব আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।












