বাংলা হান্ট ডেস্ক : রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া নিয়ে বড়সড় বদল রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)। পরিবেশ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোনও পদক্ষেপ করা যে সম্ভব নয়, শেষ পর্যন্ত তা কার্যত মেনে নিল পুর প্রশাসন। বুধবার সরোবর দুটিতে উৎসব পালনের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু পরিবেশবিদ, আইনজীবী এবং কেএমডিএ-র ইঞ্জিনিয়ারদের আপত্তির পর বৃহস্পতিবার বিকল্প ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করলেন তিনি। দক্ষিণ কলকাতায় ছটপুজোর জন্য ৫০টি ঘাট প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ছট পুজোর ঘাট নিয়ে কী জানাল সরকার (West Bengal Government) ?
রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার সিদ্ধান্ত বদল করতে হল পুরমন্ত্রীকে। এদিন তিনি স্পষ্ট করেন, পরিবেশ আদালতের অনুমতি ছাড়া সরোবরে উৎসব আয়োজন করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “যদি অনুমতি না পাই, তবে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো হবে না, সেক্ষেত্রে তো পরিবেশ আদালতের অনুমতির বিরুদ্ধে যেতে পারব না। তাই ৫০টা ঘাট দক্ষিণ কলকাতায় তৈরি থাকছে।”

উল্লেখ্য, রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে ছটপুজো আয়োজন নিয়ে আইনি নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০১৭ সালে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশের পর থেকেই এই দুই জলাশয়ে ছটপুজো বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকেও অনুমতি মেলেনি। ফলে আদালতের নির্দেশ মেনেই সরোবর দুটিতে উৎসব আয়োজন বন্ধ রাখতে হয়।
আরও পড়ুন : ১ হাজার কোটি খরচে পুরনো মঠ-মন্দির সংস্কার করবে রাজ্য! তীর্থক্ষেত্র সার্কিটের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
অথচ বুধবার গঙ্গার বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখার পর পুরমন্ত্রী সম্পূর্ণ অন্য বার্তা দিয়েছিলেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেছিলেন, “বিগত সরকারের আমলে রাজনীতি করে হিন্দুদের উৎসব বন্ধ করা হয়েছিল। এখন আর বন্ধ করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয়দের স্বার্থে এ বছর রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরেও ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হবে।”
এই ঘোষণার পরেই আপত্তির ঝড় ওঠে পরিবেশ সংক্রান্ত মহলে। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত, মোহিত রায় এবং সোমেন্দ্রমোহন ঘোষ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তাঁরা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কেএমডিএ-র কাছে আবেদন জানান, দক্ষিণ কলকাতার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে রবীন্দ্র সরোবরে যেন কোনওভাবেই ছটপুজোর আয়োজন না করা হয়।
সব দিক বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত বিকল্প ঘাট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরের পরিবর্তে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জলাশয়কে ছটপুজোর জন্য প্রস্তুত করা হবে। পুরমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, মোট ৫০টি বিকল্প ঘাটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যাতে পুণ্যার্থীদের উৎসব পালনে অসুবিধা না হয়।












