বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের মরশুমে রাজধানীর দূষণ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনও কার্যত কঠিন হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস এবং সামাজিক রীতিনীতিও পরিবেশের উপর কীভাবে প্রভাব ফেলছে, সেই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ।
দীপাবলিতে দূষণ নিয়ে কী মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) ?
শুক্রবার কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (CPCB) পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজধানীর পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ওই তথ্য অনুসারে, দিল্লির গড় বায়ুগুণমান সূচক (AQI) ৩৮৯-এ পৌঁছেছে। কয়েকটি এলাকায় সেই মাত্রা ৪০০ পেরিয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, বাতাসের মান ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কাছাকাছি। দীপাবলির সময় আতশবাজির ব্যবহার শুরু হলে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লি-এনসিআরের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটেই দূষণ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে উৎসবের কেনাকাটা ও উপহার আদান-প্রদানের বিষয়টি সামনে আনেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সামাজিক ব্যস্ততা রাজধানীর যান চলাচলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। শুনানিতে যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “পরিস্থিতি পুরো অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে গাড়ি শহরে ঢুকছে। সেই সব গাড়ির সামগ্রিক ফিটনেস বা সেখান থেকে কী পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে, তা পরীক্ষা করার কোনও উপায় নেই।”
আরও পড়ুন : কৃষ্ণকে নিয়ে ‘বাঁকা’ মন্তব্যে ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ, মানহানির মামলা বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে, কোনও গাড়ি অল্প সময়ের জন্য রাজধানীতে প্রবেশ করলেও তার দূষণের প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয়। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “একটা গাড়ি যদি দু’ঘণ্টার জন্যও একটি গাড়ি দিল্লিতে ঢুকে যায়, তাহলেও যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যায়।” এদিকে উৎসবের উপহার সংস্কৃতির পিছনে থাকা সামাজিক মানসিকতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর মতে, সমাজের সচ্ছল অংশের একাংশের কাছে দীপাবলির উপহার বিনিময় এখন আর কেবল সৌহার্দ্য প্রকাশের বিষয় নয়। বরং কে কত দামি উপহার দিতে পারছেন, তার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও প্রভাব প্রদর্শনের প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাই অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এবং যানবাহনের সংখ্যা বাড়িয়ে দূষণের সমস্যা আরও জটিল করছে বলে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ।












