‘অসফল অভিনেত্রীর সঙ্গে কী সম্পর্ক..’, অভিষেকের ‘কেচ্ছা’ ফাঁসের হুঁশিয়ারি ঋজুর

Published on:

Published on:

Riju Dutta Targets Abhishek Banerjee

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূলের অন্দরে এবার নতুন করে চর্চায় ঋজু দত্তের মন্তব্য। একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতা এখন রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সম্প্রতি অভিষেকের একটি মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ঋজু। এমনকী, অভিষেকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অনেক কিছু জানা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই হুঁশিয়ারির পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

অভিষেককে (Abhishek Banerjee) পাল্টা কী বললেন ঋজু?

পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই বিষয়টি নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন ঋজু। তাঁর বক্তব্য, একজন মহিলা আইপিএসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে কথা বলা উচিত নয়।

Police issue notice to Abhishek Banerjee in Camac Street case

এরপরই অভিষেককে (Abhishek Banerjee) উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও অনেক কিছু জানা আছে। এমনকী, এক অসফল, বি-গ্রেডের অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিষেকের কী সম্পর্ক, সেটাও তাঁদের অজানা নয় বলে দাবি করেন ঋজু।

আরও পড়ুনঃ অভিষেককে কেন রক্ষাকবচ? হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল রাজ্য সরকার

তবে এই ধরনের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সবকিছুরই একটা সীমা রয়েছে। সেই সীমা পেরিয়ে গেলে তাঁরাও মুখ খুলতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন ঋজু। অভিষেক বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা, সে কথাও নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিষেকের হাত ধরেই পরিচিতি, এখন অন্য শিবিরে ঋজু

একসময় তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন ঋজু দত্ত। দলের অন্দরে তাঁর দ্রুত উত্থানের পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সমর্থন ছিল বলেই আলোচনা। ক্যামাক স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। দলের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছিলেন তিনি। রাজ্য থেকে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কনক্লেভে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। আবার সেবাশ্রয় ক্যাম্পের দায়িত্ব সামলাতে টালার দিক থেকে নন্দীগ্রামেও পাঠানো হয়েছিল ঋজুকে।

কিন্তু আরজি কর ঘটনার সময় দলের অন্দরের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সেই সময় অভিষেকপন্থীরা অনেকটা নীরব থাকলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব সামলাচ্ছিল সুব্রত বক্সীর ভবানীপুরের অফিস। সেই সময় মুখপাত্রের তালিকা থেকে বাদ পড়েন ঋজুরা। তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলে আলোচনা হয়েছিল। পরে অভিষেক আবার দলের দায়িত্বে সক্রিয় হলে ঋজুও মুখপাত্রদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ফিরে পান। তবে গত কয়েক মাস ধরে তাঁকে আর অভিষেকের শিবিরে দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত।

এখনও মুখ খোলেননি অভিষেক

ঋজুর এই মন্তব্যের পরেও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও জবাব দেননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের বিভিন্ন শিবিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। একসময় যাঁর হাত ধরে ঋজুর রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, এখন সেই নেতার বিরুদ্ধেই তাঁর এমন মন্তব্য।