বাবার পান দোকান! কটূক্তি সহ্য করে অদম্য জেদে বিচারক হলেন মেয়ে, উদ্বুদ্ধ করবে নিশির সাফল্যের কাহিনি

Published on:

Published on:

Success Story of Nishi Gupta will surprise you.

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সংসারে আর্থিক অনটন, সমাজের নানা কটূক্তি, এমনকি মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে আত্মীয়দের আপত্তি, কোনও কিছুই সফলতা (Success Story) অর্জন থেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি নিশি গুপ্তাকে (Nishi Gupta)। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) কানপুরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিচারকের আসনে। বাবা চালাতেন পানের দোকান। সংসারে অভাব থাকায় বই কেনা থেকে শুরু করে স্কুলের ফি দেওয়াও ছিল যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী নিশি ঠিক করে নিয়েছিলেন, বড় হয়ে তাঁকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে একের পর এক বাধা পেরিয়েছেন তিনি।

নিশি গুপ্তার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

নিশির বেড়ে ওঠা হয়েছিল কানপুরের একটি যৌথ পরিবারে। সমাজের প্রচলিত ধারণা ছিল, দ্বাদশ শ্রেণি পেরোলেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁর বড় বোনের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। মাত্র ২৩ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় দিদির। নিশির ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন তাঁর পরিবার। কিন্তু মেয়ের স্বপ্নকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাঁর বাবা। আত্মীয়স্বজনের কটূক্তি এবং সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে মেয়েকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন তিনি। বাবার সেই সমর্থনই নিশির জীবনের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: লাদাখে নয়া ইতিহাস ভারতীয় বায়ুসেনার! চিনের ঘুম উড়িয়ে ১৩,৭০০ ফুট উচ্চতায় অবতরণ করল বিমান

ছোট থেকেই হিন্দি মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন নিশি। পরবর্তীকালে আইন নিয়ে পড়তে গিয়ে ইংরেজি ভাষা এবং আইনি পরিভাষা বুঝতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয় তাঁকে। পরিবারের কেউ আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ফলে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই তৈরি করতে হয়েছিল পড়াশোনার পথ। আর্থিক অনটনের কারণে নতুন বই কেনার সামর্থ্যও ছিল না। দিদির পুরনো বই দিয়েই প্রস্তুতি চালাতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি একজন সহযোগীর কাছ থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন, যিনি তাঁকে কঠিন সময়ে হাল না ছাড়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। পরে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি এবং এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন নিশি।

বিচারক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে একাধিক পরীক্ষায় বসেছিলেন তিনি। মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানের পিসিএস-জে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সাক্ষাৎকারের স্তর পর্যন্ত পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেননি। মাত্র এক নম্বরের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল। তবে সেই ব্যর্থতাকে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিলেন নিশি। নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেন। তাঁর মতে, বিচার বিভাগীয় পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য পুনরাবৃত্তি, বিষয়বস্তু মনে রাখা এবং শেখা বিষয় সঠিকভাবে লিখতে পারা—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Success Story of Nishi Gupta will surprise you.

আরও পড়ুন: হোয়াইট হাউসে দীপাবলির আলো, ভারতীয়দের সঙ্গে উৎসবে মাতলেন ট্রাম্প, উপহার পেলেন হনুমান চালিশা

শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমের ফল মেলে। ২০২২ সালের উত্তরপ্রদেশ পিসিএস-জে পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন নিশি গুপ্তা। কানপুরের সেই সাধারণ পরিবারের মেয়েই রাজ্যের সেরা হয়ে প্রমাণ করেন, আর্থিক অবস্থা কিংবা সামাজিক বাধা সাফল্যের পথে চূড়ান্ত প্রতিবন্ধক হতে পারে না। এলাহাবাদ হাইকোর্টের সরকারি নথি অনুযায়ী, বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশের মাহোবা জেলায় সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) তথা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত। তাঁর এই সাফল্যের কাহিনি (Success Story) শুধু নিজের পরিবারের গর্ব নয়, বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন দেখা অসংখ্য মেয়ের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।