বাংলা হান্ট ডেস্ক : সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে, উৎসবের দিনেও বাড়ি থেকে দূরে থাকতে হয় সেই জওয়ানদের। তাঁদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার রীতিতে কালীপুজোর দিনে হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ ক্যাম্পে গিয়ে সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে সময় কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখানে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন জওয়ানদের শুভেচ্ছা জানালেন, অন্যদিকে আগের সরকারের আমলে বিএসএফের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে ক্ষমাও চাইলেন তিনি।
কেন জওয়ানদের কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী(Suvendu Adhikari)?
সীমান্ত নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ঘিরে একাধিক প্রতিশ্রুতি এবং নতুন সম্মান চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই বিএসএফের সদস্যদের সঙ্গে এই বিশেষ দিনটি কাটাতেন তিনি। পর এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্যোগ নিলেন। শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ড তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।

হিঙ্গলগঞ্জের বিএসএফ শিবিরে গিয়ে কর্তব্যরত জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সীমান্তে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাঁরা উল্লেখযোগ্য কাজ করবেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নতুন পুরস্কার চালুর কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিএসএফ, এসএসবি এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীদের এই সম্মানের আওতায় আনা হবে। ২০২৭ সাল থেকে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ প্রদান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের।
আরও পড়ুন : দীপাবলির উপহার! কম্পিউটার টিচারদের DA বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার, পাবেন ৬,৫০৭ জন
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে পূর্বতন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য বিএসএফের সঙ্গে যে সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল, আগের সরকার তা করেনি। বিশেষ করে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজে জমি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগের সরকারের আচরণের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। BSF-এর প্রতি খারাপ শব্দ প্রয়োগ করেছেন তাঁরা। সীমান্ত সুরক্ষায় কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দেয়নি তাঁরা।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকার বদলের পর সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। ফলে অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরির আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, “সীমান্তে শিক্ষিত যুবক, যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁদের বর্তমান প্রকল্পে এবং আগামী দিনে আসা প্রকল্পে কাজের ব্যবস্থা করব।”












