Durga Puja 2026 Live Updates

বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার পরেই শুরু বিতর্ক! বয়কটের ডাক উঠতেই কী সাফাই দিল থাইল্যান্ড?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: থাইল্যান্ড (Thailand) ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত বিরোধ এবার ধর্মীয় সংঘাতের রূপ নিয়েছে। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত একটি বিশাল বিষ্ণুমূর্তি থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের কঠোর প্রতিক্রিয়া এবং ভারতীয় নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভ থাইল্যান্ডের পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিষ্ণুমূর্তি ভাঙার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় থাইল্যান্ড (Thailand) বয়কটের ডাক

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ‘বয়কট থাইল্যান্ড’ প্রচারণায় ভারতীয় পর্যটকরা সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভারতীয় পর্যটক থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেন, যা দেশটির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্ষোভের জেরে অনেকেই পাটায়া ও ফুকেটে হোটেল বুকিং বাতিলের ঘোষণা দিচ্ছেন এবং থাইল্যান্ড ভ্রমণ বর্জনের আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, কম্বোডিয়ার মাটিতে হিন্দু ঐতিহ্যের উপর এই আঘাতকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে নতুন সঙ্কট! কন্ডোমের জন্য শুরু হাহাকার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থাইল্যান্ডের সরকার ও সেনাবাহিনী সাফাই দিয়েছে। তাদের দাবি, মূর্তিটি একটি অননুমোদিত স্থানে এবং একটি স্বীকৃত ধর্মীয় স্থাপনা না হওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থেই এটি অপসারণ করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারোর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এই ব্যাখ্যা অনেক ভারতীয় নাগরিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি, ফলে অনলাইন প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।

ভারত সরকার এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিষ্ণুমূর্তি ধ্বংসের ঘটনা হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ভারত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয় দেশকে সংঘাতের সময়ে প্রাচীন স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেছে যে যেকোনো সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব।

A call to boycott Thailand over the destruction of a Vishnu idol.

 

আরও পড়ুন: ‘শীঘ্রই দোষীদের সাজা দেওয়া উচিত’, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্দশায় গর্জে উঠল ভারত

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কম্বোডিয়ার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৩২৮ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল। এর অবস্থান থাইল্যান্ড সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরোধের একটি প্রতীক ছিল। সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ডের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের প্রশ্নটিকেও নতুন করে জটিল করে তুলেছে। ভারতীয় পর্যটকদের বর্জনের হুমকি এখন থাইল্যান্ডের জন্য অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই চাপ সৃষ্টি করেছে।