বাংলাহান্ট ডেস্ক: বেশ কিছু টাকার দরকার ছিল, তাই তৎক্ষণাৎ ছোটেন নিকটবর্তী এটিএম (Automated Teller Machine) থেকে ১০ হাজার টাকা তোলার জন্য। কিন্তু সেই সাধারণ লেনদেনই পরিণত হল দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে। শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে প্রায় ৩০ গুণ বেশি অর্থ, অর্থাৎ ৩ লক্ষ টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হল ব্যাঙ্ক। ঘটনাটি ২০১৭ সালের হলেও, গ্রাহক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।
ATM (Automated Teller Machine) থেকে টাকা তুলতে গিয়ে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা পেলেন:
সূত্রের খবর, সুরাট-এর বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ২০১৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এটিএম থেকে ১০ হাজার টাকা তুলতে যান। সেখানে এটিএমে তিনি নিজের নির্দিষ্ট পিন নম্বরও দেওয়ার। কিন্তু শেষমেশ মেশিন থেকে টাকা আর বের হয়নি, এমনকি মেলেনি কোনও রিসিটও। অথচ দেখা যায় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি অবিলম্বে ব্যাঙ্ক অফ বরোদার কাছে অভিযোগও জানান।
কিন্তু ব্যাঙ্কের তরফে কোনওরকম হেলদোল দেখা যায় না। এরপরই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ অপেক্ষা। শতাধিক ইমেইল পাঠিয়েও কোনও উত্তর পাননি তিনি। লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও ব্যাঙ্কের তরফে কোনও সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়ে তিনি আরবিআই-এর দ্বারস্থ হন এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ জানান। পাশাপাশি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে আরটিআই করে এটিএমের সিসিটিভি ফুটেজও চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কোনওরকম আশানুরূপ সাড়া মেলেনি।
অবশেষে ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি ভোক্তা আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলায় ব্যাঙ্ক অব বরোদা দাবি করে, সংশ্লিষ্ট এটিএমটি এসবিআই-এর হওয়ায় দায় তাদের নয়। পাশাপাশি ট্রানজাকশন রেকর্ডে ‘সফল’ দেখাচ্ছে বলেও তারা নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। তবে ভোক্তা কমিশন এই যুক্তি খারিজ করে স্পষ্ট জানায়, লেনদেনের প্রমাণ দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাঙ্কেরই।

আরও পড়ুন:নিখুঁত ভোটের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ, ট্রেনিং নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি কমিশনের
তাঁকে জানানো হয়, আরবিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ দিনের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা, যা ব্যাঙ্ক করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আদালত নির্দেশ দেয়, ১০ হাজার টাকার সঙ্গে ৯ শতাংশ হারে সুদ, প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, মানসিক হেনস্থার জন্য ৩ হাজার টাকা এবং আইনি খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতিপূরণের অঙ্ক দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা (Automated Teller Machine)। এই রায় প্রমাণ করে, গ্রাহকের অধিকার রক্ষায় আইনের পথই শেষ ভরসা হতে পারে।












