বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে আবার নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। প্রাক্তন বিচারপতি ও বর্তমান রাজনৈতিক নেতা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay) ফের এক বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে শোরগোল ফেলে দিলেন। শিক্ষা দুর্নীতির তদন্তে তাঁর ভূমিকা আগেই নজরে এসেছিল রাজ্যবাসীর। কিন্তু এবার তিনি দাবি করছেন, শিক্ষা নয়, রাজ্যের অন্য কোনও দপ্তরে জমছে আরও বড় কেলেঙ্কারির পাহাড়। সেই দুর্নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় কম্পন হতে পারে বলেই তাঁর হুঁশিয়ারি।
রাজ্যের অন্য কোনও দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Gangopadhyay)
শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতি তদন্তে তাঁর ভূমিকা রাজ্যবাসী আগেই দেখেছে। তবে এবারের অভিযোগ শিক্ষা সংক্রান্ত নয় বলেই স্পষ্ট করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নতুন দুর্নীতি রাজ্যের অন্য কোনও দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই দুর্নীতির প্রাথমিক কিছু প্রমাণ বা গোপন সূত্র ইতিমধ্যেই তাঁর হাতে এসেছে। তবে তিনি এখনই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাঁর কথায়, সঠিক বা মোক্ষম সময় এলেই তিনি সব সামনে আনবেন, যাতে তার প্রভাব সর্বাধিক হয়।
তিনি (Abhijit Gangopadhyay) আরও বলেন, যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বা আদালতের বাইরে এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে না আসে, তাহলে তিনি আইনি পথেই এগোবেন। প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। এই অভিযোগের পাশাপাশি আন্দোলনের রূপরেখাও স্পষ্ট করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর মতে, যদি এই নতুন দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তাহলে নৈতিকভাবে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও অধিকার থাকবে না।
রাজ্যের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বড় আন্দোলনের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এই প্রসঙ্গে তিনি (Abhijit Gangopadhyay) জানিয়েছেন, দুর্নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যজুড়ে টানা ৭২ ঘণ্টা থেকে ১৪৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বনধ বা ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদি বনধের মাধ্যমে সরকারকে কার্যত অচল করে দেওয়া এবং প্রশাসনের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করাই তাঁর লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, এই কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, দুর্নীতির ব্যাপকতা এতটাই গভীর হতে পারে যে সরকারের শীর্ষ স্তরের মদত ছাড়া তা সম্ভব নয়। তিনি চান, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিন।

আরও পড়ুনঃ প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে ১০ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার, কী ছিল আসল প্ল্যান?
পরিস্থিতি আরও জটিল হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির দাবিও জোরালো হবে বলে মনে করছেন তিনি। যতক্ষণ না সরকারের পতন হচ্ছে বা মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ আন্দোলন ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি (Abhijit Gangopadhyay)। লোকসভা ভোটের আগে বা পরে যদি এই ধরনের কোনও বড় কেলেঙ্কারি সামনে আসে, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ যে আমূল বদলে যেতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন সব নজর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে থাকা সেই ‘গোপন সূত্র’ কবে এবং কীভাবে প্রকাশ্যে আসে, সেদিকেই।












