বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ (Writers Building) এবার নতুন করে আলোচনায়। নিউটাউনে হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনার পর এবার এই পুরনো প্রশাসনিক ভবনটি সংস্কারের দায়িত্ব নিতেও আগ্রহ দেখিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে রাইটার্স ঘুরে দেখেছে আদানির প্রতিনিধিদল। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় আসার কথা গৌতম আদানির। ওই দিনই রাইটার্স সংস্কার নিয়ে বড় ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাইটার্সে (Writers Building) আদানির প্রতিনিধিদল
আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পূর্ত দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে রাইটার্স (Writers Building) ঘুরে দেখেন। ভবনের বর্তমান অবস্থা, কাঠামোর সমস্যা এবং কী ভাবে সংস্কার করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। এরপর বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি হতে পারে।
জানিয়ে রাখি, রাইটার্স (Writers Building) কোনও সাধারণ সরকারি ভবন নয়। এটি কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ স্থাপত্য। তাই সংস্কারের সময় পুরনো চেহারা, সামনের অংশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী বদলানো যাবে না। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই কাজ করতে হবে। আদানির প্রস্তাব গৃহীত হলে এই নিয়ম মেনেই সংস্কার হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায় এসে নিউটাউনে প্রস্তাবিত ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ হাসপাতালের ভূমিপুজো করতে পারেন গৌতম আদানি। ওই সফরেই রাইটার্স সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা হতে পারে। তবে এখনও প্রকল্পে কত টাকা খরচ হবে বা কাজ কত দিনে শেষ হবে, তা জানানো হয়নি।
সেই সফরেই কুমারটুলি ঘাটেও যাওয়ার কথা আদানির। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতায় প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন কুমারটুলি ঘাট ও সংলগ্ন নদীতীর সংস্কার করেছে। কুমারটুলি থেকে চাঁপাতলা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার নদীতীর সাজানো হয়েছে। পুরনো মন্দির ও কাঠামো রক্ষা, নদীর পাড় শক্ত করা, হাঁটার রাস্তা, আলোর ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পরিকাঠামোর কাজও হয়েছে। পুরো পরিকল্পনা করেছেন স্থপতি অঞ্জন মিত্র।
রাইটার্স বিল্ডিংসের (Writers Building) ইতিহাস প্রায় আড়াইশো বছরের। ১৭৭৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ‘রাইটার’ বা জুনিয়র কর্মীদের অফিস হিসেবে ভবনটি তৈরির কাজ শুরু হয়। টমাস লায়নের নকশায় তৈরি এই ভবন ছিল কলকাতার প্রথম তিনতলা বাড়ি। পরে ধীরে ধীরে এর আয়তন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব বাড়ে। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীনতার পর বহু বছর পর্যন্ত বাংলার প্রশাসনের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই লালবাড়ি।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও রাইটার্সের (Writers Building) নাম জড়িয়ে আছে। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত ব্রিটিশ পুলিশকর্তা এনএস সিম্পসনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাইটার্সে অভিযান চালান। তাঁদের স্মরণে পরে ডালহৌসি স্কোয়ারের নাম হয় বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ বা বিবাদী বাগ। স্বাধীনতার পর প্রায় কয়েক দশক রাইটার্স থেকেই রাজ্য সরকারের কাজ চলেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ বর্গফুটের এই ভবনে একসময় ৩৪টি দফতর ও প্রায় ছ’হাজার কর্মী ছিলেন। ২০১৩ সালে অধিকাংশ দফতর নবান্নে চলে যাওয়ার পর রাইটার্স সংস্কারের কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।

আরও পড়ুনঃ পুজোর মুখে বাড়ল ভাতার টাকা, সোমবার থেকেই মিলবে ১৫০০!
কলকাতার ঐতিহ্য রক্ষায় এর আগেও আদানি গোষ্ঠী (Adani Group) যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন কালীঘাট মন্দিরের গর্ভগৃহ, চূড়া এবং সোনার মুকুট-সহ গুরুত্বপূর্ণ অংশের সংস্কার করেছে। এবার রাইটার্সের (Writers Building) দায়িত্বও আদানির হাতে গেলে কলকাতার আরও একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য নতুন করে সংরক্ষণের সুযোগ পাবে। ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘোষণার দিকেই এখন নজর।













