আদি বনাম নব তৃণমূল! নতুন ব্লকের নেতৃত্বে ঋতব্রত, জানুন কার ভাগে কোন পদ

Published on:

Published on:

Adi vs. Naba Trinamool‌ Congress, Know who gets which post
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন তৈরি করল তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অন্দরের দ্বন্দ্ব। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যেই দলের ভিতরে প্রকাশ্যে এল ক্ষমতার টানাপোড়েন। সেই সংঘাত এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এখন বিধানসভার ভিতরে তৃণমূলের দুটি পৃথক ব্লকের অস্তিত্ব তৈরী হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) দ্বন্দ্ব বিধানসভায়

বুধবার বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ‘নব তৃণমূল ব্লক’ নামে পরিচিত পাচ্ছে। এই নতুন তৃণমূলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতার দায়িত্বে থাকবেন ঋতব্রত নিজে। পাশাপাশি শিউলি সাহা, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে উপ-দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। কে এই পদে বসবেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসার পর। এই অভিযোগের তদন্তভার ইতিমধ্যেই হাতে নিয়েছে সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক— ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা।

ঋতব্রত ও সন্দীপন বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর তৃণমূল থেকে ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর ঋতব্রতের পাশে দাঁড়ান একাধিক বিধায়ক। তাঁদের নিয়ে পৃথক বৈঠক হয়, যেখানে সর্বসম্মতভাবে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে সেই সিদ্ধান্তের সমর্থনে স্বাক্ষরিত নথি অধ্যক্ষের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই গোষ্ঠী এখনও নতুন রাজনৈতিক দল তৈরির পথে হাঁটেনি। তাঁদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের নেত্রী এবং তৃণমূলের মূল আদর্শের সঙ্গেই তাঁরা রয়েছেন। কিন্তু সংখ্যার হিসেবে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল বিধায়ক ব্লক বলে দাবি করছেন। কারণ বর্তমানে তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক, অন্যদিকে আদি তৃণমূল ব্লকের সদস্য সংখ্যা ২২।

Adi vs. Naba Trinamool‌ Congress, Know who gets which post

আরও পড়ুন : আয়ুষ্মান ভারত না নিলে কী হবে? বেসরকারি হাসপাতালগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্তের পথে রাজ্য সরকার

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “কারা কী জন্য কী করেছেন। তাঁরা চিঠি দিয়েছেন, আইনি পথে যা হবে তারা খতিয়ে দেখবেন। এরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন, তৃণমূলের প্রতীকে জিতেছেন। এখন এরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও প্ররোচনায় অন্য কোনও স্বার্থে কিছু করতে যান তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মীরা ও মানুষ দেখবেন। এমন চোরা গোপ্তা কাজ করার কিছু ছিল না।” তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায়, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।