বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ চলতি মরশুমের আইএসএলে (ISL 2026-27) একের পর এক থ্রিলার সমর্থকদের উপহার দিচ্ছেন মোহনবাগান (Mohun Bagan) ফুটবলাররা। দিল্লি আর পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচদুটিতে পিছিয়ে গিয়েও নাটকীয় জয় পেয়েছিল সবুজ-মেরুণ শিবির। গতকাল ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে মোট দুইবার এগিয়ে গিয়েও সমতা ফিরতে দেখেছিল বাগান ডিফেন্স। কিন্তু শেষপর্যন্ত ঘরের মাঠে পুরো পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়েন প্যানাগিওটিস ডিলেমপেরিসের দল।
কাল একটা সময় অবধি মনে হচ্ছিল ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পয়েন্ট নষ্ট করবেন মেরিনার্সরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নবাগত স্কটিশ স্ট্রাইকার লি আরউইনের গোলে জয় পায় মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পাঁচ গোলের উত্তেজক লড়াইয়ে ওড়িশা এফসি-কে ৩-২ ব্যবধানে হারাতেই লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান ফিরে পেলো গতবারের রানার্স আপরা।

এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল মোহনবাগান। প্রথম মিনিট থেকেই ওড়িশার গোলরক্ষক হৃতিক তিওয়ারি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে বাগান আক্রমণভাগ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রথম ৪৫ মিনিটে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি লিস্টন, মনবীর, আরউইনরা। হৃতিকের গ্লাভসের দক্ষতায় ০-০ ফলে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের আর রোখা যায়নি আইএফএ শিল্ড জয়ীদের। শুরুর দুই মিনিটের মধ্যেই অনিরুদ্ধ থাপার দুরন্ত থ্রু ধরে ডেজান দ্রাজিচ বাঁ পায়ের শটে হৃতিককে পরাস্ত করে মোহনবাগানকে লিড এনে দেন। কিন্তু ৫১ মিনিটে মাহমুদ ইদের গোলে সমতায় ফেরে ওড়িশা। কিন্তু গোল হজম করেও দমে যায়নি মোহনবাগান। ৭৪ মিনিটে লালরিনলিয়ানা হামতের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দ্রাজিচ। কিন্তু তার ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যে ব্রাজিলিয়ান এভার্টনের গোলে ২-২ করে সমতায় ফেরে ওড়িশা।
কিন্তু এরপর দলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন আরউইন। নির্ধারিত সময়ের ২ মিনিট বাকি থাকা অবস্থায় ওড়িশার রক্ষণের ভুলে মোহনবাগানের হয়ে তৃতীয় গোলটি করে ম্যাচ জিতে নেন আরউইন। আপাতত ৫ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগশীর্ষে তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট ৬। যদিও ৩ ম্যাচ কম খেলেছে তারা। তবে ৫ ম্যাচে ৫ গোল হজম করা বাগানকে তাদের রক্ষণ নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করতেই হবে। মেহতাব, অভিষেকরা যে নিজেদের সেরা ছন্দে নেই তা সমর্থকদের কাছেও পরিষ্কার।












