আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় রোনাল্ডোর! জেনে নিন পর্তুগালের জার্সিতে CR7-এর সেরা ৫ পারফরম্যান্স সম্পর্কে

Published on:

Published on:

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানালেন পর্তুগালের (Portugal) কিংবদন্তি ও সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। প্রায় ৪২ ছুঁই ছুঁই বয়সে দেশের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচ খেলে ১৪৬ গোল ও ৪৫ টি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি দেশকে মোট তিনটি ট্রফি জিতিয়ে অবশেষে দেশের জার্সি তুলে রাখলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

এই প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেবো পর্তুগালের জার্সি গায়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেরা পাঁচটি পারফরম্যান্স সম্পর্কে যা প্রমাণ করে কেন তাকে একটা বড় অংশের ফুটবল সমর্থকরা তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে মানে।

৫. পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডস (২০০৪, ইউরো সেমিফাইনাল): আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রথম বড় টুর্নামেন্ট। ম্যাচের ২৬ মিনিটে দুরন্ত হেডে প্রথমে গোল করে তিনি নিজের দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। তারপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তার শর্ট কর্নার থেকেই দ্বিতীয় গোল পায় পর্তুগাল। গোটা ম্যাচ জুড়ে তার ড্রিবলিং, গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছিলেন ডাচ ডিফেন্ডাররা। নিজেদের ইতিহাসের প্রথম মেজর কোনও টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছিল পর্তুগাল। ১৯ বছর বয়সী তরুণ রোনাল্ডো এই ম্যাচে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আগামীতে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করবেন।

৪. পর্তুগাল বনাম মিশর (২০১৮, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ): নামেই প্রীতি ম্যাচ, ওই মুহূর্তে আফ্রিকার সেরা দল মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল সাদামাটা পর্তুগাল দল। ধারে ভারে দুই দলই প্রায় সমান। ভক্তরা এই ম্যাচে নজর রেখেছিলেন দুরন্ত ছন্দে থাকা মহম্মদ সালাহ বনাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দ্বৈরথের দিকে। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সালাহ। গোটা ম্যাচ জুড়ে রোনালদোর চেষ্টা করেও মিশরের গোলরক্ষককে প্রশ্ন করতে পারেননি। জয় নিশ্চিত ভেবে প্রীতি ম্যাচে আর ঝুঁকি না বাড়িয়ে সালাহকে ম্যাচ শেষ হওয়ার বেশ কিছুটা আগেই মাঠ থেকে তুলে নিয়েছিলেন মিশর কোচ। কিন্তু রোনাল্ডো ম্যাজিক তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের সংযুক্ত সময়ে পরিবর্তন হিসেবে নামা রিকার্ডো কোয়ারেসমার দুটি নিখুঁত ক্রস থেকেই হেডে জোড়া গোল করে পর্তুগালকে অসাধারণ জয় এনে দিয়েছিলেন সেই সিআরসেভেন। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ হিসেবে এই ম্যাচের আলাদাই গুরুত্ব ছিল।

আরও পড়ুন: মেসিকে হারিয়ে সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অর জয়ীর সম্মান পেলেন রোনাল্ডো, ভক্তদের দিলেন মনছোঁয়া বার্তা

৩. পর্তুগাল বনাম আয়ারল্যান্ড (২০২১, কাতার বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্ব): এই নির্দিষ্ট বিশ্বকাপে পর্তুগালের অংশগ্রহণ নিয়েই একসময় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গিয়েছিল। যোগ্যতাঅর্জন পর্বের গ্রূপ পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছিল পর্তুগাল। সেই দ্বিতীয় স্থানও পর্তুগাল পেয়েছিল রোনাল্ডোর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্সে ভর করে। মাথা গরম করে সেদিন হলুদ কার্ড দেখেছিলেন রোনাল্ড। ম্যাচের শুরুর দিকেই সেদিন পেনাল্টি পেয়েও নষ্ট করেছিলেন। জন ইগানের গোলে শক্তিশালী পর্তুগালের বিরুদ্ধে লিড পেয়েছিল আয়ারল্যান্ড। ম্যাচের ৮৮ মিনিট অবধি পর্তুগিজদের আটকে রেখেছিল আইরিশ ডিফেন্স। কিন্তু ৮৯ মিনিটে অসাধারণ হেডে গোল করে সমতা ফেরান রোনাল্ডো। তারপর ম্যাচের সংযুক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ফের গোল করে দলকে অবিশ্বাস্য অবস্থা থেকে জয় এনে দিয়ে ফের নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন সিআরসেভেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের পূর্ণশক্তির দল পাত্তা পেলো না ভারতের ছোটদের কাছে! দুরন্ত জয়ে সাফ অভিযান শুরু ব্লু-টাইগার্সদের

২. পর্তুগাল বনাম স্পেন (২০১৮, বিশ্বকাপ গ্রূপপর্ব): বিশ্বকাপের মঞ্চে ঘটে যাওয়া সেরা পারফরম্যান্সগুলির একটি। সেদিন কোনও চোখ ধাঁধানো, দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলেননি পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু সেই ম্যাচে নিখুঁত ফুটবল খেলেছিলেন রোনাল্ডো। দুইবার প্রথমার্ধে পর্তুগালকে লিড এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও স্পেন এগিয়ে যায় ২-৩ ফলে। সেই সময়ে ১৮ গজ বাইকের বাইরে রোনাল্ডোকে ফাউল করেন তারকা ডিফেন্ডার পিকে। ৮৮ মিনিটে তার নেওয়ার নিখুঁত বাক খাওয়ানো ফ্রি কিকে ম্যাচ ড্র করে পর্তুগাল। রোনাল্ডোর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা গোল ছিল সেটি। যতদিন ফুটবল থাকবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর এই অতিমানবিক পারফরম্যান্সের কথা সকল ফুটবলপ্রেমী আলোচনা করবে।

১. পর্তুগাল বনাম সুইডেন (২০১৩, বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বের প্লে অফ): ২ লেগের ম্যাচে এগ্রিগেটে যে দল হারবে, তাদের ব্রাজিল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় সুইডেনের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার জুলাটান ইব্রাহিমোভিচের দলের মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পর্তুগাল। সুইডেন বনাম পর্তুগাল ম্যাচের বদলে এই ম্যাচ যেন হয়ে উঠেছিল এই দুই তারকার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের লড়াই। আর এদিনই নিজেকে কিংবদন্তির পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন রোনাল্ডো। সুইডেনের মাটিতে দ্বিতীয়ার থেকে রোনাল্ডো প্রথমে গোল করে পর্তুগালকে এগিয়ে দিলেও হেড এবং ফ্রি কিক থেকে জোড়া গোল করে সুইডেনকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছিলেন জুলাটান। ঘরের মাঠের সুইডিশ ফুটবলপ্রেমীরা তখন উৎসাহে উদ্বেলিত। আর একটি গোল হলেই পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে দুটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুটি অসাধারণ ফিনিশে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করে পর্তুগালকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছিলেন সেই সময় নিজের ফর্মের মধ্যগগনে থাকা পর্তুগিজ মহাতারকা। নিঃসন্দেহে এটি তার কেরিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স।