অন্ধকারকে করেছেন জয়! UPSC-তে প্রথম প্রচেষ্টায় সফল দৃষ্টিহীন অক্ষত

Published on:

Published on:

Akshat Baldawa's Success Story will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: অন্ধকার যতই গভীর হোক, সাহস ও নিজের ইচ্ছেশক্তি যদি আলো হয়ে ওঠে তবে সাফল্যের (Success Story) পথ নিজেই উজ্জ্বল হয়ে যায় এই সত্যকেই বাস্তবে প্রমাণ করলেন মধ্যপ্রদেশের তরুণ অক্ষত বলদাওয়া। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের জোরে প্রথম চেষ্টাতেই তিনি জয় করলেন দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা UPSC। ২০২৫ সালের UPSC-র ফলাফলে ১৭৩ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি এখন প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার পথে।

অক্ষত বলদাওয়ার সাফল্যের কাহিনি(Success Story)

ইন্দোরের বাসিন্দা অক্ষত ছোটবেলাতেই এক গুরুতর অসুস্থতার কারণে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারান। শৈশব থেকেই বারংবার নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখান হতে হয় তাঁকে। কিন্তু কোনও বাধাই তাঁকে কখনও দমাতে পারেনি। পরিবারের সমর্থন এবং নিজের দৃঢ় মনোবলের জোরে তিনি একটি হিন্দি মাধ্যম সরকারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। ব্রেইল লিপির সাহায্যে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।

আরও পড়ুন: দ্রুত ট্রেন চলাচলে স্বস্তি যাত্রীদের! রেলের বড় উন্নয়ন, বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে ইয়ার্ড মডিফিকেশন সম্পূর্ণ

স্কুলজীবনের শেষদিকে তিনি ঠিক করেন যে একদিন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে তিনি কমন ল অ্যাডমিশন টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে আইন নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে হিন্দি মাধ্যম থেকে উঠে আসা একজন ছাত্র হিসেবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। প্রথমদিকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে গিয়ে তিনি বেশ সমস্যার মুখোমুখি হন এবং ফলাফলও আশানুরূপ হয়নি।

তবুও অক্ষত হাল ছাড়েননি। ধীরে ধীরে তিনি নিজের দুর্বলতাগুলিকে কাটিয়ে ওঠেন এবং কলেজের শেষ বর্ষে থেকেই সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। আইন পড়াশোনার চাপের পাশাপাশি UPSC-র প্রস্তুতি নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি দুটোকেই সামলান। অবশেষে প্রথম চেষ্টাতেই তিনি সাফল্য অর্জন করেন এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন।

Akshat Baldawa's Success Story will amaze you.

আরও পড়ুন: পড়াশোনায় শৃঙ্খলা আনতে বড় পদক্ষেপ পর্ষদের, ছাত্র-শিক্ষক উভয়ের জন্য বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক

অক্ষত জানিয়েছেন, ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিন আগেই তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙেও পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়েও তাঁর মা সবসময় পাশে থেকেছেন এবং তাঁকে সাহস জুগিয়েছেন। আজ তাঁর এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা। প্রতিকূলতার মাঝেও যে দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রম মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে, অক্ষতের গল্প তারই জল-জ্যান্ত একটি উদাহরণ।