ঘরবাড়ি পরিষ্কার করেই মাসে ২ কোটির উপার্জন! চমকে দেবে অরুণ-নিশান্তের সাফল্যের কাহিনি

Published on:

Published on:

Amazing Success Story of Clean Fanatics company.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হোম সার্ভিসে মাসিক আয় কোটি টাকা! কখনও শুনেছেন? শোনেননি তাই তো। তাহলে চলুন আজকে এমনই এক সাফল্যের কাহিনি (Success Story) শুনে নেওয়া যাক। নিজের বাড়ি একেবারে ঝকঝকে পরিষ্কার করে রাখতে কী না চায় বলুন তো! কিন্তু আজকালকার ব্যস্ত জীবনে  অনেকেই চান তাঁদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও ঝকঝকে থাকুক। কিন্তু আজকালকার ব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে নিজেরা অনেকেই সেই কাজ করে উঠতে পারেন না। তাই নির্ভরযোগ্য পরিষেবার খোঁজে থাকেন অনেকেই। আবার অনেক সময় পরিষেবা মিললেও কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ খরচ করেও প্রত্যাশিত ফল মেলে না। এই সমস্যারই সমাধান খুঁজতে উদ্যোগী হয়েছেন দুই উদ্যোক্তা বিজে অরুণ ও নিশান্ত প্রসাদ। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক তাঁদের স্টার্টআপ ‘ক্লিন ফ্যানাটিক্স’ আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনীর মাধ্যমে বাড়ি পরিষ্কারের পরিষেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জার্মান-গ্রেড সরঞ্জাম ব্যবহার করে এই সংস্থা বাড়িগুলিকে পাঁচতারা হোটেলের মতো ঝকঝকে করে তোলার দাবি করছে। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগ দ্রুতই দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বর্তমানে মাসিক প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করছে।

ক্লিন ফ্যানাটিক্সের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

২০২৪ সালে বিজে অরুণ ও নিশান্ত প্রসাদ যৌথভাবে এই স্টার্টআপ ব্যবসা শুরু করেন। উদ্যোক্তা হিসেবে অরুণের আগেও বেশ উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি আগে প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একাধিক স্টার্টআপ গড়ে তুলে সেগুলি সিসকো ও সোলারউইন্ডসের মতো বড় সংস্থার কাছে বিক্রি করেছিলেন। বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠা অরুণ দীর্ঘ ধরে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেছেন। পরে তিনি তাঁর প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হোম সার্ভিস খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন নিশান্ত প্রসাদ, যিনি এনআইটি ও আইআইএম-এর প্রাক্তন ছাত্র এছাড়াও কর্পোরেট জগতে বড় সংস্থাগুলিকে আর্থিক সাশ্রয়ের পরামর্শ দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দুজনেই বুঝতে পারেন যে এই খাতে আস্থা ও মান বজায় রাখার বড় ঘাটতি রয়েছে, তাই একটি প্রিমিয়াম ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড তৈরির লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয় ‘ক্লিন ফ্যানাটিক্স’।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে জ্বালানি সঙ্কট! ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠাচ্ছে ‘বিপদের বন্ধু’ ভারত

এই সংস্থার পরিষেবা শুধুমাত্র সাধারণ বাড়ি পরিষ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ডিপ ক্লিনসিং, মার্বেল পলিশিং, রঙ করা, সিলিং মেরামত এবং কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের মতো একাধিক পরিষেবা দেওয়া হয় এই সংস্থার তরফ থেকে। বেশিরভাগ হোম সার্ভিস কোম্পানি যেখানে তৃতীয় পক্ষের কর্মীদের উপর নির্ভর করে, সেখানে ‘ক্লিন ফ্যানাটিক্স’ নিজস্ব প্রযুক্তিবিদদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সার্ভিস করায়। সংস্থার দাবি, প্রতিটি কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে পরিষেবার মান সর্বদা উচ্চ ও একইরকম থাকে। বর্তমানে সংস্থাটি প্রতি মাসে ২,৫০০-রও বেশি বাড়িতে পরিষেবা প্রদান করছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সংস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় থাকে। বুকিং প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরিষেবা দলের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং এবং এআই-নির্ভর সময়সূচী তৈরির মতো একাধিক উন্নত প্রযুক্তি তাদের ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই আধুনিক ব্যবস্থা এবং গ্রাহকদের সন্তুষ্টি বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করেছে। সম্প্রতি ইনফ্লেকশন পয়েন্ট ভেঞ্চারসের নেতৃত্বে সংস্থাটি ১৭ কোটি টাকার সিড ফান্ডিং সংগ্রহ করেছে। বর্তমানে সংস্থার মাসিক আয় প্রায় ২ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ আয় আসে পুরনো গ্রাহকদের রেফারেলের মাধ্যমে।

Amazing Success Story of Clean Fanatics company.

আরও পড়ুন: নির্বাচনে স্বচ্ছতা রাখতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং, বাড়ি থেকে ভোটদানের সুবিধা, আর কী কী জানাল কমিশন?

আগামী দিনে ‘ক্লিন ফ্যানাটিক্স’ বেঙ্গালুরুর বাইরে আরও নিজের বিস্তার বাড়াতে চায়। সংস্থার মাথারা ইতিমধ্যেই হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই এবং পুণের মতো বড় বড় শহরে পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি তাদের মোবাইল অ্যাপকে আরও উন্নত করা এবং স্মার্ট হোম ইন্টিগ্রেশনসহ নতুন কিছু পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে শুধু ব্যবসা বাড়ানোই নয়, সংস্থার লক্ষ্য তাদের পরিষেবা কর্মীদের দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যতে তাঁদের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে এই খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়।