বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। এই অবস্থায় ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণ দেখা গিয়েছে। জ্বালানি তেলের ঘাটতির আশঙ্কায় কার্যত নাজেহাল ঢাকা। এই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে আজ ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) সম্পর্কে নতুন সমীকরণ:
বাংলাদেশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতের অসমে অবস্থিত নুমালিগড় তেল শোধনাগার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। জ্বালানি মজুত স্বাভাবিক রাখা এবং দেশজুড়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জরুরিভিত্তিতে ভারতের কাছে এই তেলের অনুরোধ জানিয়েছিল। জানা গেছে, এই পাইপলাইন ব্যবহার করে আগামী চার মাসে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ।
আরও বলেন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জের, LPG সিলিন্ডার না পেয়ে বন্ধের মুখে ভারতের হোটেল-রেস্তরাঁ
সূত্রের খবর, গত ৮ মার্চ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উল্লেখ্য, এর আগেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছিল, যার অধীনে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির কথা ছিল। তবে মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সেই সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সম্প্রতি, জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে। আপাতত মোটরবাইকে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার করে তেল দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগাম বন্ধ করার কথা জানানো হয়েছে এবং ঈদের ছুটিও এগিয়ে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক ইতিমধ্যে পাম্পগুলোকেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে পাম্প খোলা রয়েছে, সেখানেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গাড়িচালকদের।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের ঘোষণা ট্রাম্পের! তারপরেই সুরবদল করে বললেন ‘এখনও জেতা যায়নি’
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার পিছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া সংকট। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে তেল পরিবহণ কার্যত ব্যাহত হয়েছে। জানা গেছে, সেখানে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে রয়েছে, যার মধ্যে ভারতেরও ৩০টির বেশি জাহাজ রয়েছে। ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই আমদানি হয়। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশেই জ্বালানি সংকট তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।












