বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট যত এগিয়ে আসছে উপচে বেরিয়ে আসছে দলের অন্দরের কোন্দল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের (Trinamool Congress) প্রার্থীতালিকা সামনে আসতেই দিকে দিকে বিক্ষোভ। কারও মুখ ভার, কেউ ছাড়ছেন রাজনীতি, আবার কেউবা কোনো রাখঢাক না রেখে প্রকাশ্যেই উগরে দিচ্ছেন ক্ষোভ। এবার তেমনই কাণ্ড আমডাঙায় (Amdanga TMC Clash)। উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার মারাত্মক রূপ নিল। যা নিয়ে অস্বস্তি চরমে শাসক শিবিরে।
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রক্তাক্ত হল পরিস্থিতি | Trinamool Congress
আমডাঙায় ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী করেছে পীরজাদা কাশেম সিদ্দিকীকে। টিকিট পাননি বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর। এদিন সেই কাশেম সিদ্দিকীকে পাশে বসিয়েই রীতিমতো ধুয়ে দেন বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমান। যা নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রফিকুর রহমান উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গেলে প্রার্থীর অনুগামীরা মাইক কেড়ে নেন বলে অভিযোগ। এমনকি ধাক্কাধাক্কির মত ঘটনাও সামনে এসেছে।
ভোটের আগে প্রকাশ্য সভায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে খবর। কিন্তু কী নিয়ে হঠাৎ এত ঝামেলা? কাশেম সিদ্দিকী রাজনীতিতে নতুন মুখ। একসময়ের কট্টর তৃণমূল-বিরোধী ছিলেন তিঁনি। কিছুদিন আগেই তৃণমূলে যোগদান, আবার হাতে টিকিটও। জানা গিয়েছে, এলাকায় প্রচারে গিয়ে কাশেম বারবার আমডাঙায় কোনও উন্নয়নই হয়নি বলে অভিযোগ তুলছেন। কথা দিয়েছেন, তিঁনি জিতে আসলে উন্নয়ন হবে আমডাঙায়। আর কাশেমের এই অভিযোগেই চটে লাল বিদায়ী বিধায়ক।
গতকাল প্রচারসভার মঞ্চে কাশেম সিদ্দিকীকে পাশে বসিয়ে রীতিমতো তুলোধোনা করেন বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর। ভরা সভার মাঝে মাইক হাতে তুলে নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “বলতে আমার খুব খারাপ লাগছে। প্রার্থী হয়েছেন ১০ দিন আগে, ৯ দিন এলাকায় ঘুরেছেন। উনি যে সমস্ত বক্তব্য রাখছেন, সেটা ঠিক নয়।”
এখানেই শেষ নয়। রফিকুর আরও বলেন, ‘উনি ধর্মীয় মানুষ, রাজনীতিতে নতুন। উনি বলছেন উন্নয়ন করতে এসেছেন, এতদিন নাকি উন্নয়ন হয়নি! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন কি আমডাঙায় পৌঁছায়নি? তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে যদি বলেন ১৫ বছর পর উন্নয়ন করতে এসেছি, তাহলে সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’ এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
আরও পড়ুন: ‘আমরা পারলাম না..,’ সকলে পাবেন না বকেয়া DA? রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় আপডেট
বিদায়ী বিধায়ক ও বর্তমান প্রার্থীর সামনেই তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সভা। অভিযোগ, লাঠিসোটা নিয়ে মারামারি পর্যন্ত হয়েছে। গোটা ঘটনায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ভোটের মুখে শাসকদলের এমন লজ্জার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভোটব্যাঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।












