গ্যাস নিয়ে কালোবাজারি! গুদামে মজুত ৬১০ টি সিলিন্ডার, সন্ধান পেতেই পুলিশ যা করল…

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি (Fuel Crisis) নিয়ে এখনও অস্থিরতা বজায় রয়েছে ভারতের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে থাকায় তার প্রভাব পড়েছে দেশীয় অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই আবহে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারির অভিযোগ উঠতে শুরু করে, যা নিয়ে প্রশাসন কড়া নজরদারি শুরু করেছে।

জ্বালানি সঙ্কটের (Fuel Crisis) মাঝেই কালোবাজারি রুখতে অভিযান পুলিশের

এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সোমবার একটি গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে একটি গুদামে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ এলপিজি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছে।  জানা গিয়েছে সেখান থেকে মোট ৬১০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭টি ভর্তি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার, ৩৯২টি খালি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার এবং ২১টি ছোট ঘরোয়া সিলিন্ডার ছিল। ঘটনার জানাজানি হতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য  ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে কালোবাজারি চক্রের ব্যাপকতা নিয়ে।

আরও পড়ুন: কালবৈশাখীর ইঙ্গিত? দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে বড় আপডেট, আজ কোথায় কোথায় বৃষ্টি জানুন

পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই ওই গুদামে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রাখা হচ্ছিল। ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটর্শন অ্যান্ড কিডন্যাপিং সেল (AEKC) সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দেখতে পায়, সরকারি নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি উলঙ্ঘন করে বিভিন্ন সংস্থার সারি সারি সিলিন্ডার  রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সিলিন্ডারগুলির মধ্যে Indane, Bharat Gas এবং HP Gas-এর সিলিন্ডারও ছিল বলে জানা গেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি কেবলমাত্র ইন্ডেন সংস্থার বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিতরণের অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু সেখানে অন্যান্য কোম্পানির সিলিন্ডারও মজুত করা হয়েছিল, যা লাইসেন্সের শর্তাবলী এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিপন্থী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গুদামের মালিক বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সিলিন্ডারগুলি কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Amidst the fuel crisis, police launch a drive to curb black marketing.

আরও পড়ুন: রমজানে পাকিস্তানি জঙ্গিদের নয়া পরিকল্পনা! হাফিজ সইদের সংগঠন এবার যা করছে…

সম্প্রতি জ্বালানি বাজারে অনিয়ম রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারও নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, যেসব বাড়িতে ইতিমধ্যে পাইপলাইনের মাধ্যমে PNG ব্যবহার করা হচ্ছে, তারা আর এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগ রাখতে পারবেন না। এমনকি সরকারি তেল সংস্থা বা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকেও নতুন এলপিজি রিফিল নেওয়া আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্যাসের অপব্যবহার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ হবে।