বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০-৩০ লক্ষ টাকার স্থায়ী চাকরি ছেড়েও সাফল্যের (Success Story) শিখরে পৌঁছেছে মহারাষ্ট্রের আনন্দ কাশ্যপ। মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া আনন্দ ছোটবেলা থেকেই কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাদা ছিলেন কৃষক, ফলে বিশুদ্ধ ও রাসায়নিকমুক্ত খাবারের গুরুত্ব তিনি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেন। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার পথ তৈরি করে। আজ তিনি জৈব খাদ্য ব্র্যান্ড Organic Anand-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত।
আনন্দ কাশ্যপের অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
২০০৯ সালে তিনি Shri Govindram Seksaria Institute of Technology and Science থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। এরপর বহুজাতিক সংস্থা ও পিএসইউ-তে টানা ১২ বছরের বেশি কাজ করেন এবং বছরে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতেন। আর্থিকভাবে স্থিতিশীল জীবন থাকা সত্ত্বেও নিজের কিছু করার ইচ্ছা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াত। স্ত্রীর সমর্থন এবং মায়ের হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী আচারের জনপ্রিয়তাই তাঁকে চাকরি ছাড়ার সাহস দেয়।
আরও পড়ুন: CPM-এ ‘ভয়ের পরিবেশ’! মহম্মদ সেলিমকে ‘গব্বর সিং’-এর সঙ্গে তুলনা করে আক্রমণ শানালেন প্রতীক-উর
২০২১ সালে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় তিনি স্থায়ী চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগ শুরু করেন। তাঁর মায়ের রাসায়নিকবিহীন আমের আচারের স্বাদ বন্ধু ও আত্মীয়দের মধ্যে আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিল। সেই স্বাদকে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ব্যবসার সূচনা। প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা, পরে তা বেড়ে ২১ মিলিয়নের বেশি হয়। শুরুতে উৎপাদন, প্যাকেজিং, বিপণন থেকে গ্রাহক পরিষেবা—সব কাজই তিনি একাই সামলাতেন।
প্রথম মাসে আয় ছিল দুই লক্ষ টাকারও কম এবং অনলাইন বিক্রির অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো কঠিন ছিল। কিন্তু শেখার আগ্রহ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা তাঁকে এগিয়ে নেয়। ২০২২ সালে একটি আন্তর্জাতিক রিটেল প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে তিনি ব্যবসা পরিচালনা, ব্র্যান্ডিং ও সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করার কৌশল শিখেন। প্যাকেজিং প্লাস্টিক থেকে কাচে পরিবর্তন এবং ডিজিটাল উপস্থিতি বাড়ানোর ফলে ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিক্রি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন: হয়ে যান সতর্ক! ১ এপ্রিল থেকেই বদলে যাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত এই নিয়মগুলি, এখনই জেনে নিন
বর্তমানে ব্র্যান্ডটির প্রায় ১০০টি SKU রয়েছে, যার মধ্যে আচার, ক্যান্ডি, মধুভিত্তিক পণ্য, ভেষজ সামগ্রী এবং চুলের যত্নের পণ্য অন্তর্ভুক্ত। মাত্র তিন বছরে মাসিক আয় কয়েক লক্ষ থেকে বেড়ে প্রায় ২১ মিলিয়নে পৌঁছেছে এবং বার্ষিক রান রেট ২১ কোটির বেশি। আনন্দ এখন স্বাস্থ্যকর ক্যান্ডি ও ভেষজ পণ্যে বিশেষ জোর দিচ্ছেন এবং ই-কমার্স সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশজুড়ে গুদাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। তাঁর গল্প দেখায়, দৃঢ় সংকল্প, শেখার ইচ্ছা এবং পরিবারের অনুপ্রেরণা থাকলে একটি সাধারণ ঘরের আচারও বহু কোটির সফল ব্র্যান্ডে পরিণত হতে পারে।













