চেক পেলেও শেষ দেখা পেল না! আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে দেহাংশের হদিশ নেই, নিখোঁজ ২৭

Updated on:

Updated on:

Anandapur Compensation received, not last seen 27 missing
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: কেটে গেছে ২৪ টা দিন। তবু এখনো আনন্দপুরের (Anandapur) অগ্নিকান্ডে মৃতদের কাউকে এখনো সনাক্ত করা যায়নি। পাইনি পরিবারেরা তাদের প্রিয়জনের দেহাংশটুকু। অথচ পরিজনদের হাতে এসে গিয়েছে ক্ষতিপূরণের চেক। প্রিয়জনদের হারিয়ে দশ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে ২৭টি পরিবার। তবে তাদের প্রিয়জনদের মৃত্যুর দেহাংশ না পাওয়ায় পরলৌকিক ক্রিয়াকর্ম নিয়ে ধন্দে রয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিপূরণ মিলল, শেষ দেখা নয়! আনন্দপুরে নিখোঁজ ২৭ (Anandapur)

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে আনন্দপুরের (Anandapur) নাজিরাবাদে। এই ঘটনায় দুটি গুদামে আগুন লাগে। যার ফলে ভেতরে আটকে থাকার কর্মরত কর্মচারী ও নিরাপত্তা রক্ষী অনেকেই মারা গিয়েছেন। আবার বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দেয়াল ভাঙ্গানোর চেষ্টা করেছিলেন। অনেকে মৃত্যু নিশ্চিত বুঝে শেষবারের মতন ফোন করেছিলেন বাড়িতে।

 Anandapur Compensation received, not last seen 27 missing

আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে বড় পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ লোকাল স্টেশনগুলিতে ট্রেন দাঁড়ানোর সবুজ সংকেত

দমকলের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে পরের দিন বিকালের দিকে। তারপরই ভস্মীভূত গুদাম থেকে একের পর এক দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু সেখান থেকে পরিচয় তো দূরের কথা। অঙ্গ উদ্ধার করা হচ্ছে, তা বোঝাই যায়নি। ইতিমধ্যে ২৭টি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে থানায়।

Anandapur Compensation received, not last seen 27 missing

আরও পড়ুন: হাতে অল্প বাজেট? পাহাড় ভ্রমণের এই স্পটগুলো রাখুন তালিকায়

বারুইপুর মহকুমার পুলিশ দেহাংশগুলির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি পরিবারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে ডিএনএ নমুনা। তবে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যার নিশ্চিত করে বলা যায়নি। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে দশ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল রাজ্য সরকার।

Anandapur Compensation received, not last seen 27 missing

প্রসঙ্গত, ওয়াও মোমোর মালিক সাগর দারিয়ানি ও বিনোদ কুমার হোমাগাই বলেছিলেন তাদের ৩ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তবে বিজেপির তরফ থেকে ৩০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন কেন এই মোমো কোম্পানির মালিক গ্রেপ্তার হবে না? এছাড়াও প্রশ্ন উঠছে এই মোমো কোম্পানির মালিকের কিসের দাদাগিরি? যেখানে কোর্টে মামলা হয়েছে তবু গেপ্তার নয় কেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন! যেখানে বাংলাপক্ষ ইতিমধ্যে ৩০ জন বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে ওয়াও মোমো বয়কট করার ডাক দিয়েছে।

কিন্তু ওয়াও মোমো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তাদের ৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াও মোমোর তরফ থেকে পৃথক ভাবে মৃত ৩ কর্মীর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। সম্প্রতি সেই সমস্ত পরিবারের হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক পৌঁছে গিয়েছে। কোথাও সেই চেক দিয়েছেন জেলাশাসক, অথবা স্থানীয় কোন নেতা। তবে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারী কিছু ছবি প্রকাশ করেছেন এবং প্রভাবশালীর হাত মাথায় না থাকলে এই কর্মকাণ্ড করতে পারে কি, এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তাছাড়া এই ঘটনায় বিজেপি বিধায়করা আগামী দিন আরও তীব্র আন্দোলন করবে বলে জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় কবে গ্রেপ্তার হয় ওয়াও মোমোর কোম্পানির মালিকরা। যদিও তৃণমূলের নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে ওয়াও মোমোর মালিক সাগর দারিয়ানি ও বিনোদ কুমার হোমাগাই ২ অবাঙালি ব্যবসায়ী। তৃণমূল নেতাদের ছবি ব্যবহার করে দাদাগিরি বন্ধ করতে বলা হয়েছে। সাগর দারিয়ানি ও বিনোদ কুমার হোমাগাই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে দাবি করছেন তৃণমূলের একাংশ।

পাশাপাশি মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার আগেই ক্ষতিপূরণ কেন? এই নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনায় নিজের ভাই আর ছেলেকে হারিয়েছেন মেদিনীপুরের নিরঞ্জন মণ্ডল। তাঁর ভাই গোবিন্দ মণ্ডল (৩৯) এবং ছেলে রামকৃষ্ণ মণ্ডল (১৮) আনন্দপুরের গুদামে কাজ করতেন। ক্ষতিপূরণের চেক হাতে নিরঞ্জন বললেন, ‘‘টাকা তো পেলাম, কিন্তু আমাদের কষ্ট হচ্ছে খুব। এখনও চেকে হাত দিইনি। চাকরিও তো দেবে বলেছিল। আগে তো দেহ পাই! দেহ দেওয়ার আগে টাকা কেন দিল, বুঝতে পারছি না (Anandapur)।”