বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ কম্যান্ডার কারি সইদ আব্দুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz) রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার একটি ছোট খাবারের দোকানে খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর রাস্তার উল্টো দিকে থাকা কুবা মসজিদে ঢোকার পর আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কারি। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা জানান, মসজিদেই তার মৃত্যু হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আচমকা এই মৃত্যু কি নিছক শারীরিক অসুস্থতার কারণে, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোনও পরিকল্পিত হামলা? বিশেষ করে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জঙ্গি নেতার অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের হাতে মৃত্যুর ঘটনার পর কারির পরিণতি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) ফের এক লস্কর কম্যান্ডারের রহস্যমৃত্যু:
কারির মৃত্যুর আগে মসজিদে তার গতিবিধির বেশ কিছু অংশ সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও ওই ফুটেজের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কালো ব্যাগ কাঁধে এবং পাঠান স্যুট পরে মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ঢুকছে কারি। সেখানে এক যুবকের হাতে ব্যাগটি তুলে দিয়ে সে বেসিনের দিকে যান। হাত-মুখ ধোয়ার পর পাশের ওয়াটার ফিল্টার থেকে জলও খায় সে। পরে ব্যাগটি ফের নিয়ে মসজিদের দোতলায় নামাজের জায়গায় ওঠে। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পরই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। বসার আগেই মাটিতে পড়ে যায় সে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় (Pakistan)।
আরও পড়ুন: চিকিৎসার নামে প্রতারণা! ৩৫০০-র বেশি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা কেন্দ্রের
তবে কারির মৃত্যুর সময়কালই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি করেছে। যে দোকানে তিনি খাবার খেয়েছিলেন, সেখানে আরও অনেকে খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তাঁদের কারও অসুস্থ হওয়ার খবর সামনে আসেনি। ফলে খাবারে বিষক্রিয়া হয়ে থাকলে তার প্রভাব শুধু কারির শরীরেই এত দ্রুত পড়ল কী ভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কারির খাবারে ইচ্ছাকৃত ভাবে কোনও বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে। আবার কেউ তাকে আগে থেকেই অনুসরণ করছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। যদিও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও সরকারি ভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তাই বিষক্রিয়া বা পরিকল্পিত হত্যার মতো সম্ভাবনাগুলি আপাতত তদন্তের বিষয় হিসেবেই রয়েছে।
কারি সইদ আব্দুল আজিজের মৃত্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার কথিত সাংগঠনিক ভূমিকার কারণেও। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, দক্ষিণ কাশ্মীরে বর্তমানে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গি মহম্মদ লতিফ ভাটের খোঁজে তল্লাশি চলছে। গত দেড় মাসে পরপর দু’টি হামলার ঘটনায় লতিফের নাম মূল হামলাকারী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। অনন্তনাগের লাল চকে অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মী আশিক হুসেন কুরেশি এবং কুলগামের কিলান গ্রামের একটি ইটভাটায় ছত্তীসগঢ়ের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে হত্যার ঘটনাতেও লতিফের নাম রয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

আরও পড়ুন: ঘরে বসেও হবে এলপিজির e-KYC, সঙ্গে রাখুন এই ৪ ডকুমেন্ট, রইল ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া
গোয়েন্দাদের দাবি, সীমান্তের ওপার থেকে লতিফকে প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল কারি। লস্করে যোগ দিয়ে পরে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের কাছেও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে তার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এর মধ্যেই লস্করের এক শীর্ষ অপারেটিভ রিজওয়ান হানিফের একটি বক্তব্যও সামনে এসেছে। তার দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালকোট এবং মুজফ্ফরাবাদে সংগঠনের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজদের হাতে নিহত হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের (Pakistan) ইসলামাবাদের কুবা মসজিদে কারির আচমকা মৃত্যু নতুন করে রহস্য তৈরি করেছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি বিষক্রিয়া নাকি পরিকল্পিত হামলা, এই মুহূর্তে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী মহল।













