কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে স্টার্টআপে সাফল্য, অর্ধেন্দু দাসের O&B আজ লক্ষ টাকার ব্যবসা

Published on:

Published on:

Follow

পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা অর্ধেন্দু দাস কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে এক অনন্য উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সাফল্যের (Success Story) শিখরে পৌঁছেছেন। বর্তমানে মুম্বইয়ে বসবাসকারী এই তরুণ উদ্যোক্তা ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন তাঁর অডিও সরঞ্জাম স্টার্টআপ O&B। নভি মুম্বই-ভিত্তিক এই সংস্থা হাতে তৈরি উচ্চমানের অডিও অ্যামপ্লিফায়ার তৈরি করে, যার লক্ষ্য সঙ্গীতপ্রেমীদের শোনার অভিজ্ঞতাকে আরও নিখুঁত করে তোলা। প্রথম দিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও আজ তাঁর সংস্থা লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যবসা করছে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অর্ধেন্দু দাসের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

অর্ধেন্দুর প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ শুরু হয় খুব অল্প বয়স থেকেই। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি নিজেই প্রথম অ্যামপ্লিফায়ার তৈরি করেন। পরে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে তিনি সোনোডাইনের মতো প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। এরপর লারসেন & টার্বো এবং ইটন করপোরেশনের মতো সংস্থায় পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স ও ইভি ব্যাটারি নিয়ে কাজ করে তিনি নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করেন। তবে তাঁর ভেতরের অডিও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা কখনওই ম্লান হয়নি।

এআরও পড়ুন: সন্ধ্যা ৬ টার পর বন্ধ বাইক? কমিশনের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা হাই কোর্টে

২০২১ সালে একটি হোম থিয়েটার কেনার সময় তিনি উপলব্ধি করেন, বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যগুলি ভারতীয় আবহাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। এই সমস্যার সমাধান খুঁজতেই তিনি নিজের উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে চাকরি ছেড়ে নিজের সঞ্চয় দিয়ে শুরু করেন O&B। প্রথম বছর তিনি একাই সমস্ত কাজ সামলেছেন এবং ঝুঁকির কারণে পরিবারের কাছেও বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। পরবর্তীতে বাইরের সরবরাহকারীদের সমস্যার মুখে পড়ে তিনি নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেন।

বর্তমানে তাঁর সংস্থা জাপানি দর্শন ‘শোকুনিন কিশিতসু’ অনুসরণ করে, যেখানে কারুশিল্পের প্রতি নিষ্ঠা ও নিখুঁত কাজের উপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিটি পণ্য ১০০ থেকে ১৫০ ঘণ্টার কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বাজারে আসে। বিশেষভাবে ভারতের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য ডিজাইন করা এই অ্যামপ্লিফায়ারগুলি তাদের গভীরতা ও স্বচ্ছতার জন্য ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ় প্রণালী বন্ধের প্রভাব!১০০ কোটির ধাক্কা বাংলার মাছ ব্যবসায়

কোনও ধরনের অর্থপ্রদত্ত বিজ্ঞাপন ছাড়াই শুধুমাত্র গ্রাহকদের মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে অর্ধেন্দুর ব্যবসা দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। গত দুই বছরে অর্ডারের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার রাজস্ব অর্জনের পর আগামী বছরে তা ৮৫ লক্ষে পৌঁছানোর লক্ষ্য স্থির করেছে সংস্থা। বর্তমানে ১২ জনের একটি দল নিয়ে কাজ করছেন তিনি এবং ভবিষ্যতে প্রিঅ্যাম্পলিফায়ারসহ নতুন পণ্য আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিকল্পনাও করছেন (Success Story)।