বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়। ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ প্রায় থমকে গেছে। এর ফলে মাছের আমদানি ও রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে, এবং ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ক্ষতির অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধের জেরে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন বাংলার মাছের ব্যবসা
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বহু মালবাহী জাহাজ মাঝপথে আটকে রয়েছে। ফিস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, কলকাতার সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, জাহাজে হামলার আশঙ্কায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা একযোগে অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথায়, এই অনিশ্চয়তা ব্যবসার ওপর বড় আঘাত হেনেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: কারা ভোট দিতে পারবেন? অনলাইনে ভোটার তালিকা দিল কমিশন, দেখে নিন
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৭০ জন রপ্তানিকারক এবং মুম্বই ও গুজরাটের ১০০-রও বেশি ব্যবসায়ী মাছের আমদানি-রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রেখেছেন। অন্তত ৫০টি কন্টেনারের অর্ডার বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে শুধু রপ্তানিকারক নয়, এর সঙ্গে যুক্ত মৎস্যজীবী, পরিবহণকর্মী এবং ঠান্ডা সংরক্ষণ শিল্পও আর্থিক সংকটে পড়েছে।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত মেটাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আয়োজিত শান্তি বৈঠকের প্রথম দফা ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠক কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কবে আবার আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাতারাতি আরও কমল সোনার দাম! আজ ২২ ও ২৪ ক্যারেট গোল্ড প্রাইস কত জানুন
এই অবস্থায় রাজ্যের মাছ ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মতে, দ্রুত যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান না হলে বা হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) না খুললে ক্ষতির অঙ্ক আরও বহুগুণে বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই অচলাবস্থা শুধু একটি শিল্প নয়, বরং গোটা অর্থনীতির ওপরই দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।












