বাংলা হান্ট ডেস্ক : গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল কেন্দ্র সরকার। ১ জুলাই, ২০২৫ থেকে সারা দেশে চালু হয়েছে ‘ভিবি জি রাম জি আইন, ২০২৫'(VB-G RAM G Act)। এই আইনের মাধ্যমে শুধু কাজের দিনের সংখ্যাই বাড়ানো হয়নি, পাশাপাশি বৃদ্ধি করা হয়েছে শ্রমিকদের দৈনিক পারিশ্রমিকও।পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ শ্রমিক এই সিদ্ধান্তের সরাসরি সুবিধা পাবেন।
জি রাম জি আইনের (VB-G RAM G Act) আওতায় কী সুবিধা মিলবে ?
এতদিন যে কর্মসূচির অধীনে একজন শ্রমিক বছরে সর্বাধিক ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পেতেন, নতুন আইন চালুর পর সেই সীমা বেড়ে দাঁড়াল ১২৫ দিন। একইসঙ্গে জাতীয় স্তরে গড় মজুরিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে গড় পারিশ্রমিক ছিল ২৯৮.৮ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩২৭.৪ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে অতিরিক্ত ২৮.৬ টাকা করে পাবেন শ্রমিকরা।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের ৩৪টি রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং পৃথক মজুরি অঞ্চলে সংশোধিত হারে অর্থ প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো ৩০০ টাকাকে ন্যূনতম অন্তর্বর্তীকালীন ভিত্তি মজুরি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই কর্মসূচির অধীনে দেশের কোথাও আর ৩০০ টাকার কম দৈনিক মজুরি থাকবে না। কেন্দ্রের দাবি, সামগ্রিকভাবে মজুরির হার ১০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২১টি রাজ্য ও প্রশাসনিক ইউনিট এই নতুন ভিত্তি মজুরির আওতায় এসেছে।
কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড এবং অসমে কর্মরত শ্রমিকদের মজুরি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ২৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাবে। সরকারের বক্তব্য, সংশোধিত মজুরি কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এতদিন কম পারিশ্রমিক পাওয়া রাজ্যগুলির শ্রমিকরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পান। তবে যেসব রাজ্যে আগেই মজুরির হার বেশি ছিল, সেখানেও নতুন হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হরিয়ানায় দৈনিক ৪০৯ টাকা, গোয়ায় ৪০৬ টাকা, কেরালায় ৪০১ টাকা এবং সিকিমের উচ্চ পার্বত্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৪৫০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ে মজুরি প্রদানের উদ্দেশ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ৯৫,৬৯২.৩১ কোটি টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বরাদ্দও দিয়েছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন : বাজারে ভর্তি ইলিশ, পদ্মার নয় কিন্তু, তবে কোথাকার?
কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন যে, “সরকারের অগ্রাধিকার হলো এটা নিশ্চিত করা যে কোনো যোগ্য গ্রামীণ শ্রমিক যেন একদিনের জন্যও কর্মহীন না থাকেন।”তিনি বলেন, “সমৃদ্ধ গ্রামের মাধ্যমে একটি উন্নত ভারত গড়ার পথে ভিবি-জি রাম-জি আইনটির প্রবর্তন একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ”কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, আয় বাড়ানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি গ্রামীণ পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।













