বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) চূড়ান্ত রায়দান করেছে গত সপ্তাহে। রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত জানিয়েছে, পঞ্চম পে কমিশনের আওতায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ-র সম্পূর্ণটা মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে (Government Of West Bengal)।
বকেয়া ডিএ মামলা জয়ী সরকারি কর্মীরা | Dearness Allowance
বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে মুখ্যমন্ত্রী কী সেই রায় মানবেন? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সরকারি কর্মীরা। কারণ ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হবে, এখনও এমন কিছু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেননি। আদালতের রায় প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমরা স্টাডি করব, আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বলবে সেটা করব’।
তিনি বলেন, ‘রায়ের কপি রিভিউ করা হবে। আমাদের তৈরি করা এই ৫ সদস্যের কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং তারা যে রিপোর্ট বা পরামর্শ দেবে সেই মতো সরকার কাজ করবে।’ ডিএ বিষয়ে আদালতের রায় পর্যালোচনা করে সমস্ত সমস্যা দূর করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এখনও বকেয়া মেটানো হবে সেই বিষয় স্পষ্ট করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের
মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর সংক্রান্ত সওয়াল করতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। এদিকে ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া রায় মানতে নারাজ। এই ‘দ্বিচারিতা’ প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা মুখ্যমন্ত্রীর চোদ্দ বছরের আত্মপরিচয় হয়ে গিয়েছে। কর্মচারীদের ডিএ দিলে তা থেকে কাটমানি পাওয়া যায় না। আর যেখান থেকে কাটমানি পাওয়া যায়না সেই জায়গাটা নিয়ে উনি খুব ভাবেনও না। এটা গোটা রাজ্যজুড়ে চোদ্দ বছর ধরে মানুষ মোটামুটি জেনে গিয়েছে। সেভাবেই চলছে।’

আরও পড়ুন: মাঘের শেষেও জমিয়ে শীতের আমেজ! কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ঠান্ডা আপাতত থাকছে
এখানেই শেষ নয়। ভাস্করবাবু আরও বলেন, ‘কর্মচারীদের ডিএ সেখানে কাটমানি নেই। তবে আমরা একটা প্রস্তাব দিতে পারি অবশ্য এত কম রেটে ওনার পোষাবে কি না আমরা জানি না। কর্মচারীদের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টা কার্যকর করে দিন। যে ১০০% বকেয়া ডিএ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে তার ৫% আপনার ত্রাণ তহবিলে দান করে দেবেন। সেখান থেকে যদি কাটমানি হিসেবে সরিয়ে নিতে পারেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’












