বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের দুয়ারে বিধানসভা ভোট। তার আগে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে আসরে সরকারি কর্মীরা (Government Employees)। মঙ্গলবার শহিদ মিনারে সমাবেশ করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। সর্বভারতীয় মূল্যসূচক (এআইসিপিআই) অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ (Dearness Allowance) প্রদান, বকেয়া সহ একাধিক দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন তারা। সেখান থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।
বকেয়া ডিএ, শূন্যপদ সহ একাধিক দাবিতে রাস্তায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ | Dearness Allowance
বাংলাহান্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাস্করবাবু বলেন, ‘এই রাজ্য প্রতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অন্ধকার চাদরে ঢাকা পড়েছে। সেই চাদরটাকে সরিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দুর্নীতি মুক্ত করতে পারি কী না সেই প্রচেষ্টারত আছি আমরা। আমরা রত আছি এ রাজ্যের মানুষের জন্য সঠিক পারিশ্রমিক আদায় করতে পারব কি না। বর্তমানে গোটা দেশের মধ্যে যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে তার কর্মের এবং পরিশ্রমিকের যে শতাংশ হয় ভারতের মধ্যে সবথেকে সস্তার শ্রমিক হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন লেবারের ডিপার্টমেন্টের যে সমীক্ষা তাতে এটা উঠে এসেছে। ‘
তিঁনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি যে এ রাজ্যের যে ছয় লক্ষ শূন্যপদ সরকারি দফতরে পড়ে রয়েছে, কোনো নিয়োগ হয়নি, নিয়োগ হলেও সেখানে দুর্নীতি হয়েছে। শাসকদলের লোকজন নিজেদের ধন-সম্পদ বাড়িয়েছেন। সেগুলোতে স্থায়ীপদে নিয়োগের ব্যবস্থা করাতে পারব কি না। এই সমস্ত কিছু নিয়ে লড়াইটা বিগত তিন বছর ধরে চলছে। আজকে তিন বছর পূর্তিতে এই সমাবেশ।’ এই লড়াই বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিঁনি।
পাশাপাশি বকেয়া প্রসঙ্গে তিঁনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে সেই মামলাটা কিন্তু বর্তমানে যে বকেয়া ডিএ যেটার পরিমাণ ৪০% তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটা ডিএ হল গত রোপার যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এটা তার। সেটার পরিমাণ রাজ্য সরকার যা হিসেব দিয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে যে পরিমাণ ডিএ রাজ্য সরকার কর্মচারীদের না দিয়ে টাকা বাড়িয়েছে তার পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।’

আরও পড়ুন: রাত পোহালেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি জেলায় জেলায়! ভিজবে কলকাতাও? আবহাওয়ার আগাম আপডেট
ভাস্করবাবু আরও বলেন, ‘এই উদাসীনতার একটা বড় কারণ হল, আমরা হয়তো সংঘবদ্ধ হতে পারছি না। আমাদের কর্মচারীদের মধ্যে রাজনীতি এত ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে, সেখানে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করা ছাড়া, এবং দলীয় রাজনীতির বাইরে বেরিয়ে লড়াই করা ছাড়া আর অন্য কোনো রাস্তা খোলা নেই। সেই প্রচেষ্টায় রত রয়েছি। আশা করি সফল হব।’












