বাংলা হান্ট ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, তখন দেশের জ্বালানি গ্রাহকদের জন্য আশার বার্তা শোনাল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে আগামী দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের (Petrol-Diesel) দাম কমতে পারে। তবে একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সংকট এই সম্ভাবনার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
কমবে পেট্রোল-ডিজেলের(Petrol-Diesel) দাম ?
এক সাংবাদিক সম্মেলনে জ্বালানির মূল্য হ্রাসের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে যে পরিমাণ কাঁচা তেল কেনা হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি ভারতীয় শোধনাগারগুলিতে পৌঁছায়নি। বর্তমানে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি আগের উচ্চমূল্যে কেনা অপরিশোধিত তেল থেকেই জ্বালানি উৎপাদন করছে। সেই কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও সাধারণ মানুষ এখনও তার পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না।
এই প্রসঙ্গে হরদীপ সিং পুরী বলেন, “সংস্থাগুলির কাছে এখনও বেশি দামে কেনা কাঁচা তেল মজুত রয়েছে। কম দামে কেনা তেল শোধনাগারে পৌঁছলে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হবে।” মন্ত্রী আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও ভারতের জ্বালানি বাজারে এখনও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি বিচার করলে দেশের গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়েনি।
বর্তমানে দেশের প্রধান মহানগরগুলিতে জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। দিল্লিতে এক লিটার পেট্রোলের জন্য খরচ করতে হচ্ছে ১০২.১২ টাকা এবং ডিজেলের জন্য ৯৫.২০ টাকা। কলকাতায় পেট্রোলের দাম রয়েছে ১১৩.৫১ টাকা, আর ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৯৯.৮২ টাকায়। মুম্বইয়ে যথাক্রমে ১১১.২১ টাকা ও ৯৭.৮৩ টাকা দরে পেট্রোল ও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। চেন্নাইয়ে পেট্রোলের মূল্য ১০৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯৯.৫৫ টাকা প্রতি লিটার।

আরও পড়ুন :দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে কখন খুলবে দরজা, কখন হবে সন্ধ্যা দর্শন? এল নতুন নির্দেশিকা
তবে নজর এখন হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির দিকে। বিশ্বে রফতানি হওয়া বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই জলপথ ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা তেলের দর আবারও চড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা ধাক্কা খেতে পারে। কেন্দ্রের বার্তায় আপাতত স্বস্তির ইঙ্গিত মিললেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের সমীকরণ।













