বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মতো রাজ্যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে চিন্তায় বিজেপি (BJP)। সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকেই সেই উদ্বেগ স্পষ্ট করে দিলেন নীতিন নবীন। বৈঠকে নীতিন নবীন বলেন, এই পরিবর্তন বিজেপির কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে প্রচার আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলায় আসছেন বিজেপির (BJP) নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি
চলতি বছরই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে বিজেপি (BJP) যে মরিয়া, তা স্পষ্ট কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্বের তৎপরতায়। ভোটব্যাঙ্ক টানতে ইতিমধ্যেই জোরকদমে প্রচারে নেমেছেন নেতারা। এরই মধ্যে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, বাংলায় আসছেন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি। সেখানে দলের প্রচার ও ভোটকৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেও পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের পরিবর্তিত জনবিন্যাসের প্রসঙ্গ উঠে আসতে পারে।
প্রথম বৈঠকেই বাংলার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আরও গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। এই মুহূর্তে রাজ্যে বিজেপির (BJP) সংগঠন কীভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন সর্বভারতীয় সভাপতি। পাশাপাশি, প্রতিটি বুথে সংগঠন আরও মজবুত করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
দলীয় (BJP) সূত্রের খবর, নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির লক্ষ্য স্পষ্ট—যে নেতারা অতীতে ভোটে সাফল্য এনে দিয়েছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা। সেই অভিজ্ঞতা ও পারদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে দায়িত্ব দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। এদিনের বৈঠকে আরও ঠিক হয়েছে, দুটি কর্মসূচিতে বিশেষ জোর দেবে বিজেপি। কর্মসূচি দুটি হল –
- প্রথমত, সারা দেশে ‘ভিবি জি রাম জি’ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে সর্বাত্মক প্রচার চালানো হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে এই প্রচারে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ কর্মসূচির প্রচারের জন্য আলাদা পরিকল্পনা ও বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এর পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই ভোটমুখী রাজ্য কেরল ও তামিলনাড়ুতে একাধিক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। তেলঙ্গানা ও হরিয়ানাতেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিকে মাথায় রেখে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে প্রশাসনিক চমক! ১৪০ নতুন পদ, নবান্নের সিদ্ধান্তে প্রশ্নের ঝড়
সব মিলিয়ে, জনবিন্যাসের পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আগামী নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে চাইছে বিজেপি (BJP)। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সংগঠন শক্ত করা ও ইস্যুভিত্তিক প্রচারই যে দলের মূল ফোকাস, তা স্পষ্ট প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্তেই।












