বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সম্প্রতি আমলা স্তরে সংস্কার নিয়ে নবান্ন (Nabanna) থেকে জারি করা হল একটি নতুন নির্দেশিকা। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে একদিকে যেমন তৈরি হচ্ছে নতুন পদ, তেমনই একাধিক স্তরে হচ্ছে রদবদল। তবে ভোটের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ রেখে ভোটের মুখে প্রশাসনিক তৎপরতা আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কী বলছে নবান্নের (Nabanna) নয়া নির্দেশিকা?
রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ভবন নবান্ন (Nabanna) থেকে যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে—
রাজ্যের যুগ্ম সচিব (Joint Secretary) ও বিশেষ সচিব (Special Secretary) স্তরে মোট ১৪০টি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিশেষ সচিব স্তরে নতুন করে ৪০টি পদ যুক্ত হয়েছে। ফলে এই স্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪০টি। এছাড়া, যুগ্ম সচিব স্তরে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ১০০টি পদ। এর ফলে রাজ্যে যুগ্ম সচিব পদের মোট সংখ্যা বেড়ে হল ৩৫০টি।
নয়া বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুগ্ম সচিব স্তরের মোট ৩৫০টি পদের মধ্যে ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪০টি পদকে রূপান্তর করে অতিরিক্ত সচিব (Additional Secretary) স্তরে উন্নীত করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের WBCS (Executive) ক্যাডারে বড়সড় রদবদল দেখা যেতে পারে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?
নবান্ন (Nabanna) সূত্রে জানা যাচ্ছে, পদসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। সদ্য তৈরি হওয়া ১৪০টি নতুন পদের জন্য ইতিমধ্যেই অর্থদফতরের অনুমোদন মিলেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে যে,
দীর্ঘদিন ধরে WBCS অফিসারদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হবে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে কাজের ভারসাম্য তৈরি হবে এবং প্রশাসনিক গতি বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ ৪৮ ঘণ্টার ডেডলাইন! স্থায়ী ডিজি নিয়োগে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ CAT-এর
ভোটের আগে সিদ্ধান্ত, উঠছে একাধিক প্রশ্ন
তবে ভোটের আগে নবান্নের (Nabanna) এই সিদ্ধান্তে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে সাধারণ নিয়োগ কার্যত বন্ধ। একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। সেই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে আমলা স্তরে হঠাৎ পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত ভোটে সুবিধা পেতেই সরকারের রাজনৈতিক চাল। বিরোধীদের আরও দাবি, প্রশাসনিক সংস্কারের নামে এই তৎপরতা আসলে ভোটের আগে প্রশাসনিক স্তরে আনুগত্য নিশ্চিত করার চেষ্টা।












