বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রে সরকারি কর্মীদের পেনশন না পাওয়ার সমস্যা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল হাই কোর্ট (High Court)। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা না মেলায় এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী আদালতের দ্বারস্থ হন। সেই মামলার শুনানিতে বম্বে হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল অন্য প্রকল্প চালানোর আগে কর্মীদের প্রাপ্য টাকা মেটাতেই হবে।
বকেয়া টাকা নিয়ে বড় বার্তা হাই কোর্ট (High Court)
মুম্বইয়ের বৃহন্মুম্বই পুরসভার (বিএমসি) শিক্ষা দপ্তরের এক অবসরপ্রাপ্ত মহিলা কর্মী অভিযোগ করেন, সপ্তম পে কমিশনের হারে তাঁর পেনশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা এখনও মেলেনি। অনেকদিন অপেক্ষার পরও কোনও সমাধান না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। বিএমসি জানায়, রাজ্যের কোষাগারে টান পড়েছে, তাই এই টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু এই যুক্তি মানতে চায়নি বম্বে হাইকোর্ট। বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুঘে ও অভয় মন্ত্রীর বেঞ্চ জানায়, অর্থের অভাব দেখিয়ে কর্মীদের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা ঠিক নয়।
শুনানির সময় আদালত স্পষ্টভাবে বলে, সরকারি কর্মীদের পেনশন ও পিএফ সময়মতো দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। যদি টাকার সমস্যা থাকে, তাহলে অন্য খাতে এত খরচ কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। বিশেষ করে ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্পের কথা তুলে আদালত (High Court) জানায়, এই প্রকল্পে প্রচুর টাকা খরচ করা হচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে আগে কর্মীদের বকেয়া মেটানো উচিত। প্রয়োজনে এই প্রকল্প বন্ধ করার কথাও বলা হয়।
এমনকি আদালত (High Court) আরও কড়া মন্তব্য করে জানায়, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হলে অফিসের চেয়ার-টেবিল বা এসি বিক্রি করেও টাকা জোগাড় করতে হবে। দরকার হলে সরকারি গাড়িও বিক্রি করা যেতে পারে, কিন্তু কর্মীর প্রাপ্য টাকা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ হাওড়া ডিভিশনে ট্রেন বিপর্যয়! একসঙ্গে বাতিল ৪০+ লোকাল, চাপে যাত্রীরা
উল্লেখ্য, ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ধাঁচে মহারাষ্ট্রে ‘লড়কি বহিন’ প্রকল্প চালু করা হয়। কিন্তু এখন সেই প্রকল্প চালাতে গিয়ে আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠছে। অনেক নাম বাদ দেওয়ার পরও খরচ কমানো যাচ্ছে না। আদালত (High Court) নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে বকেয়া টাকা মেটানোর বিষয়ে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। এতে স্পষ্ট, এই বিষয়টি নিয়ে আদালত কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করবে না।












