বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের কাছে একের পর এক প্রত্যাশার কথা তুলে ধরতে শুরু করেছেন বিভিন্ন মহল। এবার হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন হাওড়া-দিঘা বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। এবার এর বিরুদ্ধে সরব হলেন বাস মালিকরা। তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর ধরে শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হচ্ছে।নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন বাস মালিকরা।
শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) কাছে কি দাবি বাস মালিকদের ?
হাওড়া স্টেশনের হাওড়া-দিঘা বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২২০টি বাস দিঘা, মেদিনীপুর এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। অভিযোগ, ওই স্ট্যান্ডে বাস রাখার নাম করে বাস মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হয়। বাস মালিকদের বক্তব্য, শ্রমিক সংগঠনের খরচের অজুহাত দেখিয়ে বহু বছর ধরে এই টাকা তোলা চলছে, যার কোনও বৈধ ভিত্তি নেই।
বাস মালিকদের দাবি, প্রতিদিন প্রতিটি বাস থেকে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ টাকার রসিদ। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে মারধর এবং হুমকির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাইরের কোনও বাস এসে যদি হাওড়া স্টেশনের ওই বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ায়, তাহলে তাদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগ, টাকা না দিলেই শুরু হয় ভয় দেখানো এবং শারীরিক হেনস্থা।
এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরব হয়েছেন বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের আশা, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে এবার এই দীর্ঘদিনের সমস্যারও অবসান ঘটবে। বাস মালিকদের সংগঠন অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, “বাস শ্রমিক সংগঠনের নাম করে দিনের পর দিন যেভাবে তোলাবাজি হয়েছে তাতে বাস চালিয়ে ব্যবসা করাই ক্রমশ মুশকিল হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন এরকম তোলাবাজি চলতে থাকলে আমাদের বাস চালানোই বন্ধ করে দিতে হবে। আর এটা হলে গণ পরিবহণ ধাক্কা খাবে।”
বাস মালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ,”২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনের নাম করে এই তোলাবাজি চলছে। নতুন সরকারের কাছে আমাদের আবেদন আপনারা বিষয়টি দেখুন। দীর্ঘদিনের এই তোলাবাজি থেকে বাস মালিকদের মুক্তি দিন। আশা করি নতুন পরিবর্তনের সরকার আমাদের এই আবেদনে সাড়া দেবে।”

আরও পড়ুন :অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী, রাজনীতিতে নবাগত বিজয়কে শুভেচ্ছা মোদীর
বাস মালিকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে গণপরিবহণ ব্যবস্থাই বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে। তাই নতুন সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন বাস মালিকরা।













