বেলডাঙা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হাই কোর্ট, বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

Published on:

Published on:

Calcutta High Court allows deployment of CAPF in Beldanga
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল আদালতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। জীবন ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজন হলে আরও বাহিনী মোতায়েনের পরামর্শও দিল আদালত।

বেলডাঙ্গার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দিল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)

বেলডাঙ্গার ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যেই পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষা এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সেই বাহিনী যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হবে। বাহিনী কম পড়লে, কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী অনুমোদনের কথাও বলে আদালত।

জনস্বার্থ মামলায় কী অভিযোগ?

বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে সোমবার, ১৯ জানুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী জানান, প্রতিবাদের নামে বেলডাঙায় পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। একাধিক সম্পত্তি ভাঙচুর হয়েছে, রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক অশান্তি ছড়ানো হয়। তাঁর দাবি, এই অশান্তি যে পূর্ব পরিকল্পিত, তা পুলিশ সুপার নিজেই স্বীকার করেছেন।

মামলাকারী আদালতে (Calcutta High Court) জানান, গত বছর জুলাই মাসে একই ধরনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে বাহিনী থাকলেও, সামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে থাকা সেই বাহিনী বেলডাঙায় ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর আবেদন, বেলডাঙায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরনো ১৪৪ ধারা) জারি করা হোক। পাশাপাশি দেশের শান্তি নষ্ট করতে বাইরে থেকে টাকা পাঠানো হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে NIA তদন্তের দাবিও তোলা হয়।

রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে (Calcutta High Court) জানান, মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘরছাড়া মানুষদের ঘরে ফেরানো হয়েছে। বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে রাজ্য জানায়, প্রশাসনিকভাবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ঘটনাক্রম ব্যাখ্যা করে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে। আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয় ঝাড়খণ্ডে। দুপুর ১২টা ১৫ নাগাদ এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চারটি মামলা রুজু হয়েছে। রাজ্যের দাবি, পাঁচ কোম্পানি CAPF ক্যাম্প রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে।

Calcutta High Court allows deployment of CAPF in Beldanga

আরও পড়ুনঃ এক ঘণ্টায় শেষ টিকিট! হাওড়া থেকে চালু হতে চলা দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে (Calcutta High Court) জানানো হয়, বর্তমানে বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং বাজার খুলে গিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “ইতিমধ্যেই CAPF সেখানে রয়েছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য সেই ফোর্স ব্যবহার করা হোক। ফোর্স কম হলে, কেন্দ্র আরও ফোর্স অনুমোদন দিক।” বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাজ্য বাহিনী ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, এ নতুন অভিযোগ নয়। মামলাকারীর উদ্দেশ্য সর্বত্র CAPF ও BSF মোতায়েন করা। তবে রাজ্য ঘটনার দিন এবং তার পরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে দাবি করা হয়।