অভিষেককে ফাঁকা করতেই হবে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস! দমকলের নোটিশে হস্তক্ষেপ না করে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court asked Abhishek Banerjee to vacate Camac Street office
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এর মাঝেই তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস ফাঁকা করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। দমকলের নোটিশে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ না করে শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর মামলার চূড়ান্ত রায়দান হতে পারে।

হাইকোর্টে ফের ধাক্কা খেলেন অভিষেক | (Calcutta High Court)

সম্প্রতি দমকল বিভাগের তরফে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের মালিককে নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, সাত ও আটতলায় যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। সেই কারণে অবিলম্বে তা খালি করতে হবে। এরপর মালিকপক্ষের তরফে অভিষেককে অফিস খালি করতে বলা হয়। দমকলের সেই নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে সেখানে কোনও স্বস্তি মিলল না।

আরও পড়ুনঃ CBI তদন্ত হবে! সরকারি আধিকারিকদের ভর্ৎসনা করে বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের, কোন মামলায়?

এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের সিঙ্গেল বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। শুনানি চলাকালীন তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনের দু’টি তলা লিজ নেওয়া হয়েছিল। গত ২৬ অগাস্ট ২০২৬ তারিখে লিজ বাতিল করা হয়। এর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা হয়েছে।

কিশোর জানান, এবার দমকল বিভাগের তরফে বলা হচ্ছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে। তাঁরা ভবন পরিদর্শন করেছেন এবং জানিয়েছেন ছাদে অবৈধ নির্মাণ ও সাত তলায় বেশ কিছু গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা আছে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভবনেই যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই বলে জানানো উচিত ছিল। তবে শুধুমাত্র দু’টি তলাকেই নিরাপদ নয় বলা হচ্ছে। সিলিন্ডারগুলি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনের মালিককেই এই ত্রুটিগুলি ঠিক করতে হবে।

পাল্টা এজি সুরজিত মিত্র বলেন, ভবনের সাত তলায় প্রচুর সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। মালিক সেটি অস্বীকার করেননি। তবে তা পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়নি। শুধু প্রশ্ন তুলেছে যে এটা অপ্রয়োজনীয়। ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করছিল না। ৪৫টি ফায়ার স্প্রিংকল থাকলেও সেগুলি বাকি তলাগুলির তুলনায় অনেক কম। অনেক জিনিস ত্রুটিপূর্ণ ও কাজ করছিল না। তাঁদের দাবি ছিল এগুলি মালিকের দায়িত্ব।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তখন বলেন, একদিনে ফায়ার লাইসেন্স হয় না। এর জন্য সময় লাগে। একটু সময় দিন।… এর কোনও তৎক্ষণাৎ প্রভাব নেই। অন্যদিকে ভবনটির মালিকপক্ষের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার আবার বলেন, একটা সময়ের পর ভবনের অ্যাকসেস মালিকপক্ষের জন্যেও বন্ধ করে দেওয়া হয়। না জানিয়ে ওরা ক্যাফেটেরিয়া অবধি বানিয়েছিল।

Calcutta High Court

একথা শুনে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ওই ক্যাফেটেরিয়ার কোনও ভাড়া নিয়েছেন? বাড়ির মালিক হিসেবে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। জবাবে মালিকপক্ষের তরফে জানানো হয়, বাইরে থেকে ক্যাফেটেরিয়া দেখা যেত না। কীভাবে জানব?

শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানায়, দমকলের নোটিশে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ নয়। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিস অভিষেকদের ফাঁকা করতে হবে। এবার আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত রায়দান হয় কিনা বা হলেও আদালত কী জানায় আপাতত সেটাই দেখার।