বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার সাইবার ও ক্রিপ্টো প্রতারণার অভিযোগে বড়সড় মামলায় নাম জড়িয়েছিল রুইয়া পরিবারের। এই মামলায় গ্রেপ্তারির আশঙ্কা ছিল পবন রুইয়া, তাঁর ছেলে রাঘব রুইয়া ও মেয়ে পল্লবী রুইয়ার। সেই পরিস্থিতিতে আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হন তাঁরা। মামলার শুনানির পর এই তিনজনের আগাম জামিন মঞ্জুর করে আদালত।
রুইয়া পরিবারের আগাম জামির মঞ্জুর করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)
সাইবার প্রতারণার মামলায় রুইয়া পরিবারের তিন সদস্যের আগাম জামিন মঞ্জুর করলেন কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি উদয় কুমার। পবন রুইয়া, তাঁর পুত্র রাঘব রুইয়া এবং কন্যা পল্লবী রুইয়ার আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত আগাম জামিনের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে জেলা আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় এদিন আদালতে তীব্র সওয়াল করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, “কীসের ব্যবসায়ী? এরা প্রতারক।” রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, তদন্তে সহযোগিতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়, কারণ অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলেই অভিযোগ। রাজ্য আরও প্রশ্ন তোলে, এরা কীসের শিল্পপতি এবং রাজ্যের জন্য তাঁদের আদৌ কোনও অবদান আছে কি না। রাজ্যের দাবি, ডানলপ ও জেসপ কারখানা রাজ্যের কাছ থেকে নিয়ে সেখানকার যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। রাজ্যের মতে, এই মামলায় অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালতে (Calcutta High Court) রাজ্য জানায়, তদন্তে রোজ নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। এই দুর্নীতির অঙ্ক ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পবন রুইয়া, রাঘব রুইয়া এবং পল্লবী রুইয়ার সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং সবাই অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, সাইবার প্রতারণার এই মামলায় গত ২২ ডিসেম্বর জেলা আদালত রুইয়া পরিবারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) আবেদন করেন রুইয়া পরিবারের তিন সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১৫ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার অভিযোগ ওঠে এবং এই ঘটনায় পুলিশের কাছে মোট ১৩৭৯টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে FIR খারিজের মামলাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ জামিন পেলেও শরীর ভালো নেই! হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন পার্থ, কী হয়েছিল প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর?
আদালতে (Calcutta High Court) রুইয়া পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, তাঁরা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং তিন পুরুষ ধরে রাজ্যেই তাঁদের বসবাস। তাঁদের সব ব্যবসা আইনসিদ্ধ এবং রাজ্যের অর্থনীতিতে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পাশাপাশি তাঁরা জানান, আদালত যে অঙ্ক নির্ধারণ করবে, সেই শর্ত মেনেই তাঁরা আগাম জামিন পেতে চান। সব দিক বিবেচনা করে আদালত আগাম জামিন মঞ্জুর করলেও, তদন্ত চলবে এবং শর্ত মেনে চলতে হবে বলেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।












