‘যত দ্রুত সম্ভব গরিবদের টাকা মেটান’, ১০০ দিনের কাজে কড়া নির্দেশ হাই কোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court MGNREGA Dues Hearing
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ১০০ দিনের কাজের টাকা এখনও না পেয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের বহু শ্রমিক। এই পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের হাতে দ্রুত টাকা পৌঁছনোকেই সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনের মাঝেই আদালত স্পষ্ট জানাল যে, আদালতের মূল উদ্দেশ্য একটাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্রমিকরা যেন তাঁদের প্রাপ্য টাকা পান।

১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)

কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আদালতের একমাত্র উদ্দেশ্য হল যত দ্রুত সম্ভব গরিব মানুষদের হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, যাঁরা মনরেগায় কাজ করেন, তাঁরা মূলত গরিব শ্রেণির মানুষ। তাই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।

কেন্দ্র-রাজ্যের যুক্তি, আদালতে টানটান শুনানি

রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, কেন্দ্র যাই অভিযোগ করুক না কেন, সবার আগে শ্রমিকদের টাকা দিতে হবে। তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে তা পরে খতিয়ে দেখা যেতে পারে, কিন্তু গরিব মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রাখা ঠিক নয়। অন্যদিকে কেন্দ্রের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল ডিভিশন বেঞ্চে দাবি করেন, মনরেগা প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং তদন্ত চালানো প্রয়োজন। কেন্দ্রের বক্তব্য, গোটা দুর্নীতির সঙ্গে রাজ্য যুক্ত বলেই আগে রাজ্যের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। মূল অভিযোগই ছিল রাজ্যের বিরুদ্ধেই।

‘তাহলে এই মামলার উদ্দেশ্য কী?’ প্রশ্ন আইনজীবীর

এই অবস্থায় আইনজীবী অশোক চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, এখন তাহলে এই মামলা করার পিছনে কেন্দ্রের উদ্দেশ্য কী? উত্তরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান, এই সংক্রান্ত আদালত অবমাননার মামলা এবং অন্য একটি মামলা একসঙ্গেই শোনা হবে। আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য আদালতকে (Calcutta High Court) জানান, অগাস্ট মাস থেকে শ্রমিকরা অপেক্ষা করছেন। অন্তত স্কিমের টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা যেন করা হয়। আর কত দেরি হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিচারপতি তখন বলেন, সবাই চান শ্রমিকদের হাতে টাকা পৌঁছাক।

উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া টাকা কেন্দ্রকেই মেটাতে হবে। তা সত্ত্বেও কিছু অমীমাংসিত অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে ফের কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয় রাজ্য। রাজ্যের অভিযোগ, টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র নানা শর্ত চাপাচ্ছে। কেন্দ্রের লেবার বাজেটের শর্ত কোনওভাবেই মানা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

Justice Sujoy Paul Appointed Chief Justice of Calcutta High Court

আরও পড়ুনঃ ‘হাইকোর্টে শুনানি না হলে তো আর আকাশ ভেঙে পড়বে না’ ভরা এজলাসে বিরাট মন্তব্য, IPAC মামলায় তোলপাড়

হাই কোর্টের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণের পর তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, অনৈতিকভাবে কেন্দ্র এই টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, গরিব মানুষের টাকা পাওয়া কোনও দয়া নয়, এটা তাঁদের অধিকার। অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বারবার চেষ্টা করেছে যাতে গরিব মানুষ টাকা পান। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টও একই কথা বলেছে। তবে তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট এটাও স্পষ্ট করেছে যে টাকা যেন সঠিক লোকের কাছেই পৌঁছয়। কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে হিসাবের গরমিলের কারণেই। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি। আদালত একই সঙ্গে জানতে চেয়েছে, মনরেগার কাজ নতুন করে শুরু করার বিষয়ে রাজ্য কী ভাবছে।