কমিশনের যুক্তিতে অসন্তোষ, “বিচারকদের পোলিং অফিসার করুন”, কেন রেগে গেল হাই কোর্ট?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে পোলিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কলেজের অধ্যাপকদের এই কাজে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হওয়া মামলা পৌঁছয় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। শুনানিতে কমিশনের যুক্তিতে অসন্তুষ্ট হয়ে কড়া অবস্থান নেয় আদালত, এমনকি তির্যক মন্তব্যও করেন বিচারপতি।

পোলিং অফিসার নিয়োগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) প্রশ্ন

কলেজের অধ্যাপকদের পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) শুনানি হয়। এই মামলায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুনানির সময় বিচারপতি বলেন, কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যদি এভাবে নিয়োগ করা হয়, তাহলে বিচারকদেরও পোলিং অফিসার হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, এটি কোনও মজা নয়, বরং কমিশনের সিদ্ধান্তের অসঙ্গতিই তুলে ধরতে এই মন্তব্য।

বিচারপতি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে না। তাদের দেওয়া নথিতেই একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই বিষয়ে কমিশনের আইনজীবী আদালতে বলেন, ভোটের একেবারে আগে মামলা করা হয়েছে। এখন নতুন করে কর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তি মানতে চাননি বিচারপতি। তিনি বলেন, এই ধরনের কারণ দেখিয়ে দায় এড়ানো যায় না। কমিশনকে নিজেদের সিদ্ধান্তের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এখন এই বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩টি জেলায় নতুন করে নিয়োগ করতে হবে। এতে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি বলা হয়, আগে এসআইআর-এর কাজে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছিল।
এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি আরও কড়া সুরে বলেন, অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটাকেই মান্যতা দিতে বলা যায় না। প্রয়োজনে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পাঠানোর কথাও বলেন তিনি।

Calcutta High Court

আরও পড়ুনঃ ভোর হতেই হানা! তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি-অফিসে আয়করের তল্লাশি

অন্যদিকে, আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, কমিশনের রিজার্ভে থাকা অফিসারদের ব্যবহার করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারকদের কাজে লাগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুনানি শেষে আদালত (Calcutta High Court) নির্বাচন কমিশনকে ২৪ ঘণ্টার সময় দেয়। নির্দেশ দেওয়া হয়, পরদিন আদালতে এসে নিজেদের বিজ্ঞপ্তির পক্ষে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে, না হলে আদালত নিজেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।