বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠল বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। যে মামলা এক সময় পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় পেয়েছিল, সেই মামলা কীভাবে আবার ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল, তা নিয়েই এ বার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন প্রধান বিচারপতি। এই বিষয় ঘিরে আদালতের অন্দরেই তৈরি হয়েছে বড়সড় আইনি জটিলতা।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মোট ১৪টি মামলার শুনানি ওঠে। তার মধ্যেই ছিল হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি আবেদন। সেই মামলায় মামলাকারি ও আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল শুনানির আবেদন জানালে প্রধান বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়েছে, রায় হয়েছে, সেই মামলা নতুন কোনও নির্দেশ ছাড়া কীভাবে ডিভিশন বেঞ্চে ফিরে এল?” এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি কোনও পক্ষের আইনজীবীরাই। ফলে বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।
এর পরই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দেয়, আগামী দিনে এই বিষয়টি নিয়ে আদালতকে (Calcutta High Court) দিশা দেখানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যা দিতে। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের আইনজীবীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এতদিন এই মামলায় যে সব রায় ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলি আদালতের সামনে তুলে ধরতে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হবে বলে জানানো হয়েছে।
কী নিয়ে মামলা হয়েছিল হাই কোর্টে (Calcutta High Court)?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে। অনেক এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুঠপাট এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো অভিযোগ সামনে আসে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, শাসক দলের কর্মী ও সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন তাঁদের দলের কর্মী ও সমর্থকরা।
এই সব অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) একাধিক মামলা দায়ের হয়। পরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছয়। শীর্ষ আদালত জানায়, অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এরপর একাধিক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোথাও বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়। খুন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের ভূমিকা
এই মামলাগুলির শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল ২০২১ সালে পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেন। সেই বেঞ্চে ছিলেন –
- রাজেশ বিন্দল
- হরিশ টন্ডন
- ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়
- সৌমেন সেন
- সুব্রত তালুকদার

আরও পড়ুনঃ SSC নিয়োগে আবার মোড়, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল নতুন দুটি আবেদন, কী কী?
এই বেঞ্চ থেকেই সিবিআই তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই এই মামলাগুলি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হতে শুরু করে। এই পরিবর্তন নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠল আদালতের মধ্যেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ওই পাঁচ বিচারপতির মধ্যে বর্তমানে কেউই আর কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) কর্মরত নন।













