বাংলাহান্ট ডেস্ক : অভাবের এতই জ্বালা যে কোলের সন্তানকে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে একজন মাকে! এমনই বিষ্ফোরক অভিযোগ উঠল এক মহিলার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা উঠলে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। কোন পথে যাচ্ছে সমাজ যে একজন মা নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছেন!
অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
এদিনের শুনানিতে হাওড়ার সাঁকরাইল থানাকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার। মে মাসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে উচ্চ আদালত।

সন্তান বিক্রির অভিযোগ: গত বছর মে মাসে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সাঁকরাইলের একটি পাড়ায় হানা দিয়েছিল পুলিশ। ওই পাড়ার এক দিনমজুর পরিবারে দেড় মাস আগেই এক সন্তানের জন্ম হয়েছিল। সেই সন্তান বিক্রির খবর পেয়েই হানা দেয় পুলিশ। আচমকা হানা দিয়ে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে একটি চুক্তিপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, ওই চুক্তিপত্রে সই করেই নিজের ৪৫ দিনের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন মা।
আরও পড়ুন : ভোটার তালিকায় নাম বাদের ক্ষেত্রে দু নম্বরে পশ্চিমবঙ্গ, প্রথম স্থানে কোন রাজ্য?
পুলিশ উদ্ধার করে শিশুটিকে: জানা যায়, চুক্তিপত্রে মায়ের নাম করে লেখা ছিল, অন্য এক ব্যক্তিকে সন্তান হস্তান্তর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সন্তানের প্রতি কোনও অধিকারও দাবি করা হবে না। এদিকে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে লিলুয়া হোমে পাঠায় এবং জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। সেই খবর পেয়েই সন্তানের হেফাজত চেয়ে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেন অভিযুক্ত।
আরও পড়ুন: একদিনেই উঠে গেল কর্মবিরতি, বুধবার থেকে শুরু কাজ, লীনার সংস্থার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ?
প্রথমে মামলা বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে উঠলে নির্দেশ দেওয়া হয়, মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চাটিকে কোথাও স্থানান্তর করা যাবে না। পরে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা স্থানান্তরিত হলে তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের কী অবস্থা যে একজন মা তাঁর সন্তানকে বেচে দিচ্ছেন। বেঞ্চ আরও প্রশ্ন তোলে, সন্তানকে ফের মায়ের কাছে দেওয়া হলে তিনি যে ফের তাকে বেচে দেবেন না তার গ্যারান্টি কোথায়? অভিযুক্তর আইনজীবীর বক্তব্য, আদালত যেকোনো শর্তে এবং নজরদারিতে মায়ের কাছে সন্তানকে দিতে পারে। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযোগের সঠিক তদন্ত হোক তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।












